২৫ জুন ২০২৬, ১:০৯:১৩
দেশে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণুর (এএমআর) প্রাদুর্ভাব চরম উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে এক গুরুত্বপুর্ণ প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান। মন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বর্তমানে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণুর বৃদ্ধি দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য অন্যতম বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিনের এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী জানান, অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ও অতিরিক্ত ব্যবহারই মূলত এই সংকটের জন্য দায়ী। তিনি বলেন, মানুষ ও প্রাণীর ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকের অযৌক্তিক প্রয়োগ এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতার ফলে জীবাণুগুলো ঔষধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলছে। এতে করে সাধারণ চিকিৎসা পদ্ধতিও দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জীবাণু শনাক্তকরণের জন্য আধুনিক কিট তৈরি এবং নজরদারি (সার্ভেইল্যান্স) বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিশেষায়িত স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে অত্যাধুনিক মাইক্রোবায়োলজি ল্যাব সেটআপ করা হচ্ছে। এছাড়া ল্যাবে দক্ষ জনবল তৈরির জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, সরকারি উদ্যোগে ‘ওয়ান হেলথ’ পদ্ধতির মাধ্যমে মানুষ, পশু ও পরিবেশ—তিনটি খাতেই সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কঠোর তদারকি চালানো হচ্ছে যাতে পরিবেশে এই সুপারবাগের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হয়।

















