অর্থনীতি

বাংলা কিউআর কী? ডিজিটাল লেনদেনে কীভাবে বিপ্লব আনছে এই নতুন প্রযুক্তি

২৮ জুন ২০২৬, ৮:১৯:৩৮

বাংলাদেশে ডিজিটাল লেনদেনের নতুন দিগন্ত উম্মোচন করেছে ‘বাংলা কিউআর’। জানুন কীভাবে এই একটি কিউআর কোড ব্যবহার করে সব ব্যাংক ও এমএফএস অ্যাকাউন্ট থেকে পেমেন্ট করা যাবে এবং এর সুবিধা-অসুবিধাগুলো কী।

প্রভাতী বার্তাকে গুগল পছন্দে যুক্ত করুন!

বাংলাদেশে ক্যাশলেস পেমেণ্ট বা নগদবিহীন লেনদেন ব্যবস্থায় বিপ্লব ঘটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক চালু করেছে ‘বাংলা কিউআর’ (Bangla QR)। এটি এমন একটি সমন্বিত কিউআর কোড ব্যবস্থা যার মাধ্যমে গ্রাহকরা যে কোনো ব্যাংকের অ্যাপ কিংবা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) ব্যবহার করে খুব সহজে কেনাকাটার বিল পরিশোধ করতে পারবেন। আগে একেক ব্যাংকের জন্য আলাদা কিউআর কোড ব্যবহারের প্রয়োজন হলেও, এখন একটি মাত্র ‘বাংলা কিউআর’ কোডেই সব ধরনের ডিজিটাল পেমেন্ট সম্পন্ন করা সম্ভব।

বাংলা কিউআর ব্যবহারের প্রধান সুবিধা হলো এর সহজলভ্যতা এবং নিরাপত্তা। ছোট ছোট দোকানদার বা হকার থেকে শুরু করে বড় শপিং মল—সবখানেই এই কোড ব্যবহার করা যাচ্ছে। এতে খুচরা টাকা বা ভাংতির ঝামেলা যেমন নেই, তেমনি নগদ টাকা সাথে রাখার ঝুঁকিও কমেছে। এছাড়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা কোনো পস (POS) মেশিন ছাড়াই শুধু একটি কিউআর কোড প্রিন্ট করে তাদের ড্রয়ারে বা দেওয়ালে লাগিয়ে ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারছেন। এই পদ্ধতিতে লেনদেনের ক্ষেত্রে মার্চেন্টদের বড় কোনো খরচ বহন করতে হয় না, যা ডিজিটাল ইকোনমিতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াচ্ছে।

বাংলা কিউআর একাউন্ট খোলার নিয়মও অত্যন্ত সহজ। একজন ব্যবসায়ী তার নিকটস্থ ব্যাংক শাখা বা এমএফএস (বিকাশ, রকেট, নগদ ইত্যাদি) এজেন্টের কাছে গিয়ে মার্চেন্ট একাউন্টের জন্য আবেদন করতে পারেন। প্রয়োজনীয় নথি হিসেবে সাধারণত জাতীয় পরিচয়পত্র, ট্রেড লাইসেন্স (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) এবং একটি সচল ব্যাংক একাউন্ট বা মোবাইল ওয়ালেট প্রয়োজন হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে তাকে একটি ইউনিক বাংলা কিউআর কোড প্রদান করা হয়। সাধারণ গ্রাহকরা সরাসরি তাদের ব্যাংকিং অ্যাপের স্ক্যানার ব্যবহার করে এই কোডের মাধ্যমে পেমেন্ট করতে পারেন।

তবে এই ব্যবস্থার কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। যেমন—স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেট সংযোগের প্রয়োজনীয়তা এবং গ্রামের অনেক মানুষের ডিজিটাল লিটারেসি বা কারিগরি জ্ঞানের অভাব। অনেক সময় নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে পেমেন্ট সফল হতে দেরি হতে পারে। তাসত্ত্বেও, সরকারের ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে বাংলা কিউআর একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করছে। এটি মূলত দেশের আনুষ্ঠানিক অর্থনীতিতে অনানুষ্ঠানিক খাতের ব্যবসায়ীদের যুক্ত করার একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

প্রভাতী বার্তার সর্বশেষ খবর পেতে
Google News অনুসরণ করুন
Follow ★

আরও খবর:

বিবিধ