১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪৮:০৪
একটি শিশুর জন্মের পর থেকেই শুরু হয় আগামীর সুস্থ পৃথিবী গড়ার প্রস্তুতি। আর এই সুস্থতার পথে প্রথম ও প্রধান প্রতিরক্ষা দেয়াল হলো যথাসময়ে সঠিক টিকা। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় নবজাতককে বিভিন্ন মরণব্যাধি থেকে রক্ষা করতে বিশ্বজুড়ে টিকাদানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাংলাদেশেও সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে শিশুদের বিভিন্ন ধরনের টিকা দেওয়া হয়ে থাকে।
কেন টিকা দেওয়া জরুরি?
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকা শিশুদের এমন সব সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়, যা একসময় শিশু মৃত্যুর প্রধান কারণ ছিল। এটি কেবল ব্যক্তিগত সুরক্ষা নয়, বরং সমাজের অধিকাংশ মানুষ টিকা নিলে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ তৈরি হয়, যা পুরো জনপদকে নিরাপদ রাখে।
সরকারি টিকা কর্মসূচি (ইপিআই):
বাংলাদেশ সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু টিকা বিনামূল্যে দেওয়া হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
অতিরিক্ত সুরক্ষায় বেসরকারি টিকা:
সরকারি টিকার বাইরেও বর্তমানে অনেক বেসরকারি টিকা পাওয়া যায় যা শিশুকে বাড়তি সুরক্ষা প্রদান করে। এগুলো সাধারণত ব্যক্তিগত খরচে হাসপাতাল বা ক্লিনিকে নিতে হয়। এর মধ্যে রোটাভাইরাস (ডায়রিয়া প্রতিরোধে), ভারিসেলা (জলবসন্ত), টিসিভি (টাইফয়েড), ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং এইচপিভি (জরায়ু ক্যান্সার প্রতিরোধে) অন্যতম।
কখন কোন টিকা দিতে হবে?
জন্মের পর থেকে নির্দিষ্ট বয়সে টিকা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সতর্কতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:
টিকা নিলে শিশুর সামান্য জ্বর বা শরীরে ব্যথা হতে পারে, যা স্বাভাবিক। তবে তীব্র কোনো সমস্যা বা খিঁচুনি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। কোনো ডোজ মিস হয়ে গেলে বিচলিত না হয়ে স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে হবে। মনে রাখবেন, টিকা দিতে দেরি হওয়া ঝুঁকির, তবে নিয়ম মেনে দিলে কোনো বড় ক্ষতি হয় না।

















