স্বাস্থ্য

করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরুরি নির্দেশনা জারি

১০ জুন ২০২৫, ১২:৫৩:৩২

New variant of coronavirus detected: Emergency directives issued by the health department.
করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরুরি নির্দেশনা জারি

প্রভাতী বার্তা ডেস্ক: ভারতসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দেশে করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সতর্কতা জারি করেছে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল সোমবার (৯ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. হালিমুর রশিদের স্বাক্ষরে এক জরুরি নির্দেশনায় প্রয়োজন ছাড়া এসব দেশে ভ্রমণ না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রভাতী বার্তাকে গুগল পছন্দে যুক্ত করুন!

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অমিক্রনের নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্ট এলএফ.৭, এক্সএফজি, জেএন-১ ও এনবি ১.৮.১-এর সংক্রমণ বিভিন্ন দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এই ভ্যারিয়েন্টগুলো আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের মাধ্যমে বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের সব স্থল, নৌ ও বিমানবন্দরে হেলথ স্ক্রিনিং ও নজরদারি জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশে প্রবেশপথে থার্মাল স্ক্যানার ও ডিজিটাল হ্যান্ড হেল্ড থার্মোমিটারের মাধ্যমে যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপ করা হবে। স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে মাস্ক, গ্লাভস ও পিপিই মজুদ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে জনসচেতনতা বাড়াতে করোনা প্রতিরোধ সংক্রান্ত নির্দেশনা ব্যাপকভাবে প্রচার করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। জনগণকে ভারতসহ সংক্রমণপ্রবণ দেশগুলোতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ না করার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে, আইসিডিডিআরবির গবেষকেরা জানিয়েছেন, করোনার আরও দুটি নতুন ধরন— এক্সএফজি ও এক্সএফসি শনাক্ত হয়েছে, যেগুলো অমিক্রন জেএন ১-এর উপধরন এবং এদের সংক্রমণ ক্ষমতা বেশি। এই পরিস্থিতিতে জনসাধারণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, দিনে সাতবার বা প্রয়োজনমতো অন্তত ২৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। নাক-মুখ ঢাকতে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে এবং হাঁচি-কাশির সময় টিস্যু বা কাপড় দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে রাখতে হবে। অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক বা মুখ স্পর্শ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে অন্তত তিন ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

সন্দেহজনক রোগীদের বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, কেউ অসুস্থ হলে তিনি যেন ঘরে থাকেন এবং প্রয়োজন হলে নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করেন। রোগীকে অবশ্যই মাস্ক পরতে বলা হয়েছে এবং জটিল পরিস্থিতিতে আইইডিসিআরের হটলাইনে (০১৪০১-১৯৬২৯৩) যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর উল্লেখ করেছে, সময়মতো ব্যবস্থা গ্রহণ ও সর্বসাধারণের সতর্কতা বজায় রাখার মাধ্যমেই এই নতুন সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

প্রভাতী বার্তার সর্বশেষ খবর পেতে
Google News অনুসরণ করুন
Follow ★

আরও খবর:

বিবিধ