১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৫৩:৪৫
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬.৩৯ বিলিয়ন ডলারে। অর্থনীতিতে ফিরছে স্বস্তি।
দেশের অর্থনীতিতে স্বস্তির খবর জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৬ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে এই ইতিবাচক চিত্র উঠে এসেছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং রপ্তানি আয়ের গতি কিছুটা ইতিবাচক থাকায় রিজার্ভের এই শক্ত অবস্থান দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী রিজার্ভের হিসাব সংরক্ষণের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়ানোর নানা কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কিছুটা হলেও কমতে শুরু করেছে। হুন্ডি রোধে কঠোর অবস্থান এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানো উৎসাহিত করার ফলেই মূলত রিজার্ভের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ভূমিকা অপরিসীম। আমদানি ব্যয় মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ থাকা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমান ৩৬.৩৯ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ দিয়ে বেশ কিছুদিনে আমদানি ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব হবে, যা দেশের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের মাঝে আস্থা জোগাবে।
এদিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে যে তারা মুদ্রাবাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার ধরে রাখতে নিয়মিত তদারকি করছে। ভবিষ্যতে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বৃদ্ধি পেলে এবং বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ নিয়ন্ত্রণে থাকলে রিজার্ভের এই পরিমাণ আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সামগ্রিকভাবে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের এই বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে।

















