১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৭:৪২
শারদীয় দুর্গাপূজা সার্বজনীন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে নারায়ণগঞ্জ জেলা জুড়ে জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১১। জেলায় অবস্থিত ২১৯টি পূজামণ্ডপের মধ্যে ৯৩টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। মণ্ডপগুলোতে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক নিরাপত্তা ফ্রেমওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জের ঐতিহাসিক রামকৃষ্ণ মিশন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান এসআরবি-১১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ।
তিনি জানান, ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাতটি জেলায় মোট ১ হাজার ৯৫০টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যার মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে ২১৯টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। উৎসবকালীন যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মোবাইল স্ট্রাইকিং ফোর্স, কুইক রেসপন্স টিম, সার্বক্ষণিক কো-অর্ডিনেশন সেল এবং বিভিন্ন পয়েন্টে বিশেষ চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।
নিরাপত্তা কৌশল বর্ণনা করে এসআরবি প্রধান বলেন, নারায়ণগঞ্জে পূজার নিরাপত্তায় সাতটি টহল দল এবং সাদা পোশাকে ৩০ জন সদস্য সার্বক্ষণিক মাঠে কাজ করছেন। মণ্ডপগুলোর অভ্যন্তরীণ ও বাইরের এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরা এবং ড্রোনের মাধ্যমে তদারকি করা হচ্ছে। নিরাপত্তা মনিটরিং সহজ করতে ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপস’ ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি সাইবার স্পেসে গুজব, অপপ্রচার ও উসকানিমূলক পোস্ট ঠেকাতে এসআরবি-এর সাইবার উইং সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছে।
সংবাদ সম্মেলনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি, মাদক কিংবা যেকোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের অরাজকতা বা নাশকতার চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিক কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সব ধর্মের সমন্বয়ে সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে সাধারণ দর্শনার্থী ও পূজা উদযাপন কমিটির প্রতি আহ্বান জানানো হয়—যেকোনো সন্দেহজনক বস্তু বা আচরণ পরিলক্ষিত হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করতে হবে।

















