১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৪৯:৩৬
মিশরের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে গ্যালারিতে ইসলামবিদ্বেষী স্লোগান দেওয়ায় স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনকে জরিমানা ও ঘরের মাঠে আসন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে ফিফা।
মিশরের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ চলাকালে গ্যালারিতে মুসলিমবিরোধী ও ইসলামবিদ্বেষী স্লোগান দেওয়ার দায়ে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনকে (আরএফইএফ) শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা স্পেনকে নগদ অর্থ জরিমানার পাশাপাশি তাদের পরবর্তী ঘরের মাঠের ম্যাচে স্টেডিয়ামের একাংশ ফাঁকা রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
গত মার্চে বার্সেলোনার কাছে অবস্থিত লা লিগার ক্লাব এস্পানিওলের আরসিডিই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছিল স্পেন ও মিশরের প্রীতি ম্যাচটি। মাঠের লড়াই গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হলেও গ্যালারির একটি অংশের দর্শকদের আচরণ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। ম্যাচের প্রথমার্ধের দশম মিনিটে এবং দ্বিতীয় অর্ধের শুরুতে স্পেনের একদল সমর্থক ইসলামবিদ্বেষী স্লোগান দিতে শুরু করে।
ঘটনা ঘটার পরপরই স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় বৈষম্যবিরোধী বার্তা প্রদর্শন করে দর্শকদের সচেতন করার চেষ্টা করা হয় এবং স্টেডিয়ামের ঘোষকের মাধ্যমে সতর্কবার্তা প্রচার করা হয়। তবে গ্যালারির কিছু অঞ্চল থেকে সেই সময় উল্টো দুয়োধ্বনি দেওয়া হয়। স্পেনের তারকা উইঙ্গার লামিন ইয়ামাল, যিনি নিজে একজন মুসলিম, পরবর্তীতে এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও ঘৃণা প্রকাশ করেন। তিনি সমর্থকদের এমন আচরণকে অজ্ঞতা ও বর্ণবাদী মনোভাবের পরিচয় বলে মন্তব্য করেন।
ম্যাচ শেষে স্প্যানিশ পুলিশ ও ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি আলাদাভাবে তদন্ত শুরু করে। ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি এই ধরনের স্লোগানকে স্পষ্টতই বৈষম্যমূলক ও ইসলামবিদ্বেষী হিসেবে উল্লেখ করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
ফিফার শাস্তি ও জরিমানার বিবরণ
ফিফার দেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনকে নগদ ২০ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা প্রদান করতে হবে। এছাড়া, স্পেন নিজেদের মাঠে যে পরবর্তী আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচটি খেলবে, সেখানে স্টেডিয়ামের মোট ধারণক্ষমতার ১৫ শতাংশ আসন দর্শক শূন্য রাখতে হবে। এই নির্দেশনার আওতায় মূল ক্ষতিপূরণ হিসেবে দুই গোলপোস্টের পেছনের গ্যালারির অংশই বন্ধ রাখা হবে।
তবে ফিফা জানিয়েছে, তারা চাইলে বিশেষ অনুমতির মাধ্যমে ওই ১৫ শতাংশ আসনে পরিবার, শিক্ষার্থী বা বৈষম্যবিরোধী সামাজিক সংগঠনের মতো নির্দিষ্ট শ্রেণির দর্শকদের বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ দিতে পারে।
স্প্যানিশ ফেডারেশনের যুক্তি ও ফিফার পর্যবেক্ষণ
শুনানিতে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন দাবি করেছিল, সমর্থকদের এই আচরণ বৈষম্যমূলক ধারার (ফিফা আচরণবিধির অনুচ্ছেদ ১৫) আওতায় পড়ে না, বরং এটিকে রাজনৈতিক বা আপত্তিকর বার্তার অনুচ্ছেদে (অনুচ্ছেদ ১৭) বিবেচনা করা উচিত। স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষের মতে, তাদের উচ্চারিত শব্দগুলো সরাসরি কোনো অশালীন গালি ছিল না।
তবে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি এই যুক্তি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। ফিফা স্পষ্ট জানিয়েছে, শাস্তির জন্য সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট অপমানজনক শব্দ থাকা বাধ্যতামূলক নয়। কোনো বার্তা যদি কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় বা জাতিগত গোষ্ঠীকে উপহাস করার বা খাটো করার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়, তবে তা বৈষম্য ও বর্ণবাদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী আগামী জুনে স্পেনের পরবর্তী প্রীতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে স্প্যানিশ দল উয়েফা নেশনস লিগের ফাইনালে পৌঁছালে কিংবা সূচিতে পরিবর্তন এলে এই শাস্তি ইউরো ২০২৮ বাছাইপর্বের প্রীতি ম্যাচের ফাঁকা সময়ে কার্যকর করা হতে পারে।

















