সারাদেশ

অনিশ্চয়তায় ৩৭০ বিষধর সাপ ও মূল্যবান সাপের বিষ

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:৫৪:২৩

অর্থ সংকট ও সরকারি অনুদান বন্ধ থাকায় চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে দেশের একমাত্র ভেনম রিসার্চ সেন্টার। চট্টগ্রামের চমেক হাসপাতাল সংলগ্ন এই গবেষণা কেন্দ্রে থাকা ৩৭০টি বিষধর সাপের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গবেষকরা। একই সঙ্গে সংগৃহীত প্রায় ১ কেজি ৭০০ গ্রাম সাপের মূল্যবান বিষের গন্তব্য কী হবে, তা নিয়েও দেখা দিয়েছে ধোঁয়াশা।

প্রভাতী বার্তাকে গুগল পছন্দে যুক্ত করুন!

২০১৮ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের অধীনে এই ভেনম রিসার্চ সেন্টার যাত্রা শুরু করে। এখানে রাসেলস ভাইপার, পদ্মগোখরা, পিটভাইপার ও সবুজ বোড়াসহ ১১ প্রজাতির মোট ৩৭০টি সাপ লালন-পালন করা হচ্ছিল। দীর্ঘ আট বছর ধরে চলা এই গবেষণায় সাপের বিষ থেকে অ্যান্টিভেনম তৈরির প্রাথমিক সাফল্যও এসেছিল। গবেষকরা রাসেলস ভাইপারের বিষ থেকে মুরগির শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি করে সফল ট্রায়াল সম্পন্ন করেন, যা প্রচলিত অ্যান্টিভেনমের মতোই কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়।

কিন্তু ২০২৪ সালের জুন মাস থেকে এই প্রকল্পে সরকারি অর্থবরাদ্দ ও অপারেশনাল প্ল্যানের অনুদান সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে কোনো ধরনের সরকারি সহায়তা ছাড়াই গবেষকরা নিজেদের পকেটের টাকা, ধারদেনা এবং ব্যক্তিগত অনুদান দিয়ে কোনোমতে সেন্টারটি সচল রেখেছিলেন। বর্তমানে গবেষক ও কর্মচারীদের বেতন এবং সাপের খাবার বাবদ প্রতি মাসে সাড়ে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে। দীর্ঘদিন ফান্ড না থাকায় গবেষকদের দেনার পরিমাণ ইতিমধ্যে প্রায় ৩৫ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, আগামী দুই মাসের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিলে কর্মীদের চাকরি ছেড়ে দিতে হবে। এছাড়া বন্দিদশায় থাকা ৩৭০টি সাপকে একসঙ্গে মেরে ফেলাও আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আবার বন্য বা লোকালয়ে ছেড়ে দিলে তা সাধারণ মানুষের জন্য মারাত্মক প্রাণঘাতী হতে পারে। কারণ এসব সাপ প্রকৃতি থেকে সরাসরি খাবার সংগ্রহ করতে অভ্যস্ত নয়। সংকট নিরসনের জন্য প্রায় এক বছর আগে নতুন একটি ডিপিপি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও তা বর্তমানে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে আটকে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে প্রতি বছর প্রায় চার লাখ মানুষ সাপে কাটার শিকার হন এবং এর মধ্যে প্রায় সাড়ে সাত হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে। দেশের নিজস্ব অ্যান্টিভেনম তৈরির এই সম্ভাবনাময় গবেষণা প্রকল্পটি এভাবে বন্ধ হয়ে গেলে তা জনস্বাস্থ্য খাতের জন্য একটি বড় ধাক্কা হবে। এমতাবস্থায় দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ ও প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন ভেনম রিসার্চ সেন্টারের গবেষকরা।

প্রভাতী বার্তার সর্বশেষ খবর পেতে
Google News অনুসরণ করুন
Follow ★

আরও খবর:

বিবিধ