২ নভেম্বর ২০২৬, ৭:৩৬:০৮
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ‘সুন্দলপুর সাউথ-১’ কূপে নতুন গ্যাসের সন্ধান মিলেছে। বাপেক্সের তত্ত্বাবধানে খনন করা এই কূপ থেকে প্রতিদিন ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে এবং এখানে প্রায় ৯৭.৬৯ বিসিএফ গ্যাসের মজুত রয়েছে।
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় নতুন একটি গ্যাস কূপের সন্ধান মিলেছে। উপজেলার রামপুর ইউনিয়নে অবস্থিত ‘সুন্দলপুর সাউথ-১’ নামক এই অনুসন্ধান কূপটিতে খননকাজ শেষে বিপুল পরিমাণ গ্যাসের মজুত পাওয়া গেছে। রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান বাপেক্স (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড) জানিয়েছে, এই কূপ থেকে প্রতিদিন ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে অগ্নিপ্রজ্বালনের মাধ্যমে নতুন এই কূপে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করে কর্তৃপক্ষ। বাপেক্সের তথ্যমতে, কূপটির দুটি আলাদা জোনে মোট ৯৭.৬৯ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ) গ্যাসের মজুত রয়েছে। বর্তমান বাজারমূল্যে এই মজুতকৃত গ্যাসের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা।
বাপেক্সের নিজস্ব খননযন্ত্র ‘বিজয়-১০’ ব্যবহার করে গত ৮ জুলাই থেকে এই কূপের খননকাজ শুরু হয়েছিল। প্রায় সাড়ে তিন মাসের নিরলস প্রচেষ্টায় ৩ হাজার ২৮৯ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করে এই সাফল্য পাওয়া যায়। প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, কূপটিতে গ্যাসের পাশাপাশি অন্য কোনো খনিজ উপাদান আছে কিনা, তা জানতে আরও ১৫ দিন পর্যবেক্ষণ ও ডিএসটি পরীক্ষা চালানো হবে।
এই আবিষ্কারকে দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এক বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদুর রহমান এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম এই অর্জনে আনন্দ প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করছেন, এই গ্যাস সম্পদ ব্যবহারের মাধ্যমে স্থানীয় শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করে দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

















