১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:২৭:১৯
দেশের গণপরিবহন খাতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হতে যাচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটে দেশের প্রথম বৈদ্যুতিক ট্রেন (ইলেকট্রিক ট্রেন) চালুর প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৩ হাজার ৮২২ কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্প অনুমোদন পায়। ২০৩১ সালের জুনের মধ্যে এই রুটে বাণিজ্যিকভাবে ট্রেন চলাচলের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরিবহনে যুগান্তকারী রূপান্তর ও জ্বালানি সাশ্রয়:
প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুযায়ী, বর্তমানে রেলওয়েতে ব্যবহৃত ডিজেলচালিত ইঞ্জিনের তুলনায় এই বৈদ্যুতিক ট্রেনগুলো প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি জ্বালানি সাশ্রয়ী হবে। ট্রেনের গতি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় যাত্রী সাধারণের সময় অপচয় কমবে। এটি দেশের রেল ব্যবস্থাকে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার একটি বড় পদক্ষেপ।
শিল্পাঞ্চলের যানজট নিরসন:
রাজধানী ঢাকা এবং এর দুই প্রান্তের দুটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল—গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের মধ্যে মহাসড়কের অতিরিক্ত চাপ কমাতে এই রুটটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে পুরোনো ডিজেল ইঞ্জিনের সীমাবদ্ধতার কারণে ট্রেনের গতি ও ট্রিপের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রতিদিন যাতায়াতকারী হাজার হাজার যাত্রী দ্রুত ও সাশ্রয়ী গণপরিবহনের সুবিধা পাবেন।
অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন:
এই প্রকল্পের আওতায় রেলের পরিচালনা ব্যবস্থা পুরোপুরি বিদ্যুতে রূপান্তরিত করা হবে। প্রধান অবকাঠামোগত দিকগুলো হলো:
১. রেললাইনের ওপর দিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য ‘ওভারহেড ক্যাটেনারি তার’ স্থাপন।
২. নির্দিষ্ট দূরত্বে বিশেষায়িত ‘ট্রাকশন সাবস্টেশন’ নির্মাণ।
৩. আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব ‘ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট’ (ইএমইউ) ট্রেন ও লোকোমোটিভ সংযোজন।
৪. কম্পিউটারভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালিং ব্যবস্থা প্রবর্তন।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে। সাশ্রয়ী ও উচ্চগতির এই যোগাযোগ ব্যবস্থা দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

















