জাতীয়

আগামী বছর ২১ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে ইউপি নির্বাচন

১২ অক্টোবর ২০২৬, ৪:১৩:১০

আগামী বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে পাঁচ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন শুরু করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

প্রভাতী বার্তাকে গুগল পছন্দে যুক্ত করুন!

দেশের সাড়ে চার হাজারের বেশি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের চূড়ান্ত রূপরেখা ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দীর্ঘ আলোচনা ও বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, আগামী বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে মোট পাঁচ ধাপে এই স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ কমিশন বৈঠকে এই সময়সূচি চূড়ান্ত করা হয়। বৈঠকে চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিবসহ কমিশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের সামনে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, পূর্বের পরিকল্পনা অনুযায়ী নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে ভোটগ্রহণের কথা থাকলেও বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা ও পরীক্ষাসংক্রান্ত জটিলতার কারণে তা পেছানো হয়। পরবর্তীতে ইসি ভোট গ্রহণের পরিকল্পনা ৭ ধাপ থেকে কমিয়ে ৫ ধাপে নামিয়ে আনে। সংশورিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী বছরের ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ শুরু হবে। এরপর ক্রমান্বয়ে বাকি ধাপগুলোর ভোট সম্পন্ন হবে।

ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের ভোট অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি। এর বেশ কিছুদিন বিরতির পর তৃতীয় ধাপের ভোট হবে ২৯ এপ্রিল। চতুর্থ ধাপের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১৩ মে এবং পঞ্চম তথা সর্বশেষ ধাপের ভোটগ্রহণ হবে একই মাসের ২৭ মে।

নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, কমিশন সরাসরি কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো তফসিল ঘোষণা করবে না। কমিশন কেবল ভোটের স্লট বা সময়সীমা নির্ধারণ করে দেবে। সেই স্লট অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট জেলার নির্বাচন কর্মকর্তারা নিজ নিজ এলাকার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করবেন।

প্রাথমিকভাবে চলতি বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে নির্বাচন আয়োজনের প্রাথমিক পরিকল্পনা করেছিল ইসি। সে সময় ৭ ধাপে ভোট করার রূপরেখা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ১৭ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে জানানো হয় যে, বছরের শেষভাগে বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা ও দাপ্তরিক ব্যস্ততার কারণে নির্বাচন আয়োজন করা কঠিন হতে পারে। এই বাস্তবতার কথা মাথায় রেখে ইসি তাদের পূর্বের পরিকল্পনা থেকে সরে আসে এবং ভোটগ্রহণ কার্যক্রম আগামী বছরের জানুয়ারি মাসে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়।

বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। তৃণমূল পর্যায়ে নেতৃত্ব নির্বাচন এবং স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সচল রাখতে এই নির্বাচনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে এবং সম্ভাব্য প্রার্থীরা এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। প্রথম ধাপে দেশের প্রায় ৮০টি উপজেলার ইউনিয়নগুলোতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের ওপর তফসিল ঘোষণার দায়িত্ব দেওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনী প্রস্তুতি আরও গতিশীল হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মে মাসের শেষ নাগাদ পাঁচ ধাপের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফলভাবে শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে নির্বাচন কমিশন। ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হবে বলেও কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

প্রভাতী বার্তার সর্বশেষ খবর পেতে
Google News অনুসরণ করুন
Follow ★

আরও খবর:

বিবিধ