২ অক্টোবর ২০২৬, ৯:২১:২০
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও বিশৃঙ্খলার ঘটনায় কঠোর সরকার। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগ করেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি।
রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরের ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে সরকার ও রাজনৈতিক দল বিএনপি। অপরাধ কর্মকাণ্ডে দলীয় পরিচয়ের অপব্যবহার রোধ করতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নীতিনির্ধারকরা। প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনার পর এরই মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি তার পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন এবং স্পিকার তা কার্যকর করেছেন।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে এবং এর সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে স্থানীয় কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। জাতিসংঘে সরকারি সফর শেষে দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। দলীয় পরিচয়ে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পরই গত বুধবার রাতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পদত্যাগপত্র জমা দেন সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। এরপরই সংসদ সচিবালয় তাঁর আসনটি শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
রাড্ডা কাণ্ডের পরপরই কেবল সংসদ সদস্যের পদত্যাগেই সীমাবদ্ধ থাকেনি দল ও সরকার। গত বুধবার রাতে বিএনপি ও যুবদलोंের ঢাকা মহানগর উত্তর এবং ছাত্রদলের মহানগর পশ্চিম কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। পাশাপাশি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বিএনপি, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের চৌদ্দ জন নেতা-কর্মীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে পরিষ্কার বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, দলীয় পরিচয়ে কেউ ছাড় পাবে না।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে দখল, চাঁদাবাজি এবং স্থাপনায় হামলার বেশ কয়েকটি ঘটনা জনমনে অস্বস্তি তৈরি করেছিল। বিশেষ করে মিরপুরের রাড্ডা কেন্দ্র ভাঙচুর, ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা এবং আদাবর ও মোহাম্মদপুরে সম্পত্তি দখলের চেষ্টার ঘটনায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। তবে সাম্প্রতিক এই জোরালো পদক্ষেপে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কার্যক্রম, মাদক কিংবা জুয়া—যেকোনো অপরাধের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধ দমনে পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও আরও সক্রিয় করা হয়েছে এবং সাইবার পুলিশ ইউনিটসহ নানা নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সরকারের এই কঠোর অবস্থানকে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি বড় ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের শূন্য সহনশীলতা নীতি বজায় রাখলে সাধারণ মানুষের আস্থা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ আরও সুদৃঢ় হবে। সরকারের পক্ষ থেকেও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, শুধু রাড্ডা হাসপাতাল নয়, দেশের যেকোনো প্রান্তে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটলেই তাৎক্ষণিক ও কঠোর আইনি এবং সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাকবে।

















