জাতীয়

নির্বাচন ঘিরে নারায়ণগঞ্জে কঠোর নিরাপত্তা: মাঠে ২২০০ পুলিশ, বড় ঝুঁকির শঙ্কা নেই

১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:২৫:০৫

সংগ্রহিত ছবি

প্রভাতী বার্তা | নারায়ণগঞ্জ

প্রভাতী বার্তাকে গুগল পছন্দে যুক্ত করুন!

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিশৃঙ্খলা এড়াতে জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের ৭৯৭টি ভোটকেন্দ্রে মাঠে থাকবে জেলা পুলিশের ২ হাজার ১৯৬ জন সদস্য। পাশাপাশি প্রশাসনের দাবি, নির্বাচনে বড় ধরনের কোনো ঝুঁকির আশঙ্কা নেই।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) জেলা পুলিশ লাইন্স মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী ব্রিফিং প্যারেডে এসব তথ্য জানান নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত জেলার কোথাও সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন এবং ভোটের দিন কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।

পুলিশ সুপার জানান, ভোটকেন্দ্রগুলোতে স্থায়ী পুলিশের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করবে ৮১টি মোবাইল পার্টি, ১৪টি স্ট্রাইকিং পার্টি এবং ১১টি স্ট্যান্ডবাই পার্টি। জেলার সাতটি থানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সহকারী পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে সার্বিক তদারকি করা হবে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্র সিসিটিভির আওতায় থাকবে এবং গুরুত্বপূর্ণ ৪৫১টি কেন্দ্রে পুলিশ সদস্যদের জন্য বডি অন ক্যামেরা ব্যবহৃত হবে।

এ সময় তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের সততা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।

অন্যদিকে, নির্বাচন ঘিরে প্রশাসনিক প্রস্তুতির বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক রায়হান কবির। তিনি বলেন, জেলার সব ধরনের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে এবং বড় কোনো ঝুঁকির আশঙ্কা নেই।

রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে জেলা প্রশাসক জানান, নির্বাচনী আচরণবিধি মনিটরিংয়ের জন্য ১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

নির্বাচনের দিন কেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়ন থাকবে। পাঁচটি সংসদীয় আসনের ৭৯৭টি ভোটকেন্দ্রে প্রায় ১৩ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া মাঠে থাকবেন ৪২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

জেলা প্রশাসক আরও জানান, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ ও আনসার সদস্য মিলিয়ে ১৪ থেকে ১৫ জন দায়িত্ব পালন করবেন এবং বাইরের এলাকায় স্ট্রাইকিং ফোর্স টহলে থাকবে।

নিরাপত্তা প্রযুক্তির দিক থেকেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। সব ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ ৪৫১টি কেন্দ্রে পুলিশের বডি ক্যামেরার মাধ্যমে জেলা ও ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং করা হবে।

ভোটারদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক রায়হান কবির বলেন, নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। ভোটাররা নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন এবং প্রতিটি ভোট সঠিকভাবে গণনা করা হবে।

তিনি জানান, ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রভাতী বার্তার সর্বশেষ খবর পেতে
Google News অনুসরণ করুন
Follow ★

আরও খবর:

বিবিধ