২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:১৫:৩০
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশ্বমঞ্চে এটি তার প্রথম ভাষণ হওয়ায় নিউইয়র্কসহ পুরো প্রবাসীদের মাঝে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা ও গণতান্ত্রিক যাত্রার বার্তা শুনতে উন্মুখ হয়ে আছেন বিশ্বনেতারাও।
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে বাংলায় ঐতিহাসিক ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। তার এই সফর বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। এর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এই মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন।
রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততা ও গুরুত্বপূর্ণ কাজের কারণে প্রধানমন্ত্রী এবার তার সফর সংক্ষিপ্ত করেছেন। নিউইয়র্কে চার দিনের সংক্ষিপ্ত সফরে তিনি কোনো রাজনৈতিক সংবর্ধনা বা সানফ্রান্সিসকোর ব্যবসায়িক বৈঠক অংশ নিচ্ছেন না। ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন। এবারের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন তার মন্ত্রীসভার পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
সফরসূচি অনুযায়ী, ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের প্রাতরাশ সভা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের সংবর্ধনায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় এবং ‘বৈশ্বিক বৈষম্য সঙ্কট মোকাবেলা’ বিষয়ক সভায় বক্তব্য রাখবেন। এছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তন ও রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার জোরালো দাবি তুলবেন তিনি।
২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্য বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার। জাতিসংঘের সাইডলাইনে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্সসহ ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া বিশ্বব্যাংক ও ইউরোপীয় কাউন্সিলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথেও তার বৈঠকের কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কের প্রবাসী বাংলাদেশীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা বিরাজ করছে। বাঙালি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে টাঙানো হয়েছে স্বাগত ব্যানার ও ফেস্টুন। নতুন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্বমঞ্চে কতটা জোরালোভাবে প্রতিফলিত হয়, এখন তারই অপেক্ষায় পুরো জাতি।

















