জাতীয়

পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নতুন সচিবালয়, হচ্ছে পাতাল সড়কও

১১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৬:৫৫

পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নতুন সচিবালয়, হচ্ছে পাতাল সড়কও
সচিবালয় সরিয়ে নেওয়া হবে শেরেবাংলা নগরে পুরোনো বাণিজ্যমেলার মাঠে

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে স্থানান্তরিত হচ্ছে বাংলাদেশ সচিবালয়। ৩,৫০০ কোটি টাকার নতুন প্রকল্পে থাকছে পাতাল সড়ক ও আধুনিক ব্যবস্থা।

প্রভাতী বার্তাকে গুগল পছন্দে যুক্ত করুন!

রাজধানীর আবদুল গনি রোড থেকে দেশের প্রশাসনিক প্রাণকেন্দ্র ‘বাংলাদেশ সচিবালয়’ স্থানান্তরের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার। শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে প্রায় ৩২ একর জমিতে গড়ে তোলা হবে নতুন এই প্রশাসনিক কমপ্লেক্স। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রাথমিক সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। সরকারের চলমান মেয়াদের মধ্যেই এই মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু করে দৃশ্যমান অগ্রগতি আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে নতুন সচিবালয় নির্মাণের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, গণপূর্ত অধিদপ্তর এবং স্থাপত্য অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ইতোমধ্যেই প্রকল্পটি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ জানিয়ে পরিকল্পনা কমিশনে প্রস্তাব পাঠিয়েছে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।

নকশা ও আধুনিক অবকাঠামো
স্থাপত্য অধিদপ্তর নতুন সচিবালয়ের জন্য আলাদা তিনটি নকশা প্রস্তুত করেছিল। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সভায় সর্বসম্মতিক্রমে একটি নকশা চয়ন করা হয়। জাতীয় সংসদ ভবনের স্থাপত্যশৈলীর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রস্তাবিত সচিবালয়ের ভবনগুলো ১২ তলাবিশিষ্ট করা হবে।

বর্তমানে আবদুল গনি রোডের সচিবালয়ে দাপ্তরিক কাজের মোট জায়গা রয়েছে প্রায় ১৭ লাখ বর্গফুট, যা বর্তমান প্রশাসনের বিপুল কর্মপরিধির তুলনায় বেশ অপ্রতুল। অন্যদিকে শেরেবাংলা নগরে নতুন যে পরিকল্পনা করা হয়েছে, সেখানে ভবনের ভেতরে সর্বমোট জায়গার পরিমাণ দাঁড়াবে ৩১ লাখ বর্গফুট। ফলে সচিবালয়ের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার স্থানসংকট অনেকটাই কেটে যাবে।

নতুন সংযোগ সড়ক ও পাতাল পথ
নতুন প্রশাসনিক কেন্দ্র ঘিরে শেরেবাংলা নগর ও আশপাশের এলাকায় যেন অতিরিক্ত যানজট তৈরি না হয়, সে জন্য সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রস্তাব করা হয়েছে। অনুমোদিত নকশা অনুয়ায়ী সচিবালয় প্রাঙ্গণ ঘিরে তৈরি করা হবে একমুখী বা চক্রাকার (সার্কুলার) সড়ক।

এছাড়া বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের পেছন দিক দিয়ে একটি নতুন সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে। এটি জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের পাশ দিয়ে সরাসরি মূল মিরপুর সড়কে গিয়ে যুক্ত হবে। পাশাপাশি বিজয় সরণি থেকে আগারগাঁও হয়ে মিরপুর ১০ নম্বরের দিকে যাওয়া প্রধান সড়কের নিচ দিয়ে একটি পাতাল সড়ক (আন্ডারপাস) নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। পাতাল পথ চালু হলে সাধারণ যানবাহনের চলাচল ব্যাহত না করেই দ্রুততম সময়ে সচিবালয়ে প্রবেশ ও বের হওয়া সম্ভব হবে।

উদ্যোগের পটভূমি
উল্লেখ্য, গত ২৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত একনেক সভায় আবদুল গনি রোডের বর্তমান সচিবালয় প্রাঙ্গণে ৬৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২১ তলাবিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণের প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী সে সময় ভবনটির অনুমোদন না দিয়ে পুরো সচিবালয়কে শেরেবাংলা নগরে স্থানান্তরের সুনির্দিষ্ট সম্ভাব্যতা পর্যালোচনার নির্দেশ দেন। সেই পর্যালোচনার ওপর ভিত্তি করেই বর্তমান মহাপরিকল্পনাটি গৃহিত হলো।

বর্তমান সচিবালয়ের ভবিষ্যৎ রূপরেখা
শেরেবাংলা নগরে নতুন সচিবালয় চালু হওয়ার পর আবদুল গনি রোডের বর্তমান ঐতিহাসিক ভবনগুলোতে পুরান ঢাকায় অবস্থিত ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) কার্যালয়, জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) কার্যালয়সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরগুলো স্থানান্তর করা হতে পারে। এতে পুরো রাজধানীর প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় এক ধরণের সুষম বিন্যাস আসবে বলে মনে করছেন সংশিলষ্টরা।

প্রভাতী বার্তার সর্বশেষ খবর পেতে
Google News অনুসরণ করুন
Follow ★

আরও খবর:

বিবিধ