১৩ মার্চ ২০২৬, ৩:২০:২২
বাংলাদেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে কিডনি রোগীর সংখ্যা। বর্তমানে দেশের প্রতি ৭ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে অন্তত একজন দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে ভুগছেন, যা এক দশক আগে ছিল প্রতি ৯ জনে একজন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) বিশ্ব কিডনি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর মিরপুরে কিডনি ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এ তথ্য প্রকাশ করেন।
বিশেষজ্ঞরা জানান, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের প্রকোপ বৃদ্ধির পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, বায়ুদূষণ, তীব্র তাপপ্রবাহ এবং পানিশূন্যতার মতো পরিবেশগত কারণগুলো কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। তবে আশার কথা হলো, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে প্রায় ৪০ শতাংশ ক্ষেত্রে এটি নিরাময় করা সম্ভব।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান বলেন, সচেতনতাই কিডনি রোগ প্রতিরোধের প্রধান হাতিয়ার। তিনি মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে ধর্মীয় সভায় সচেতনতামূলক বার্তা প্রচারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি একটি গবেষণার বরাত দিয়ে জানান, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার বিষয়ে সঠিক বার্তা পৌঁছাতে পারলে ডায়াবেটিস ও স্থূলতা ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব।
বিশেষ অতিথি এবং গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রে নারীরা একদম শেষ পর্যায়ে ডায়ালাইসিসের প্রয়োজনে হাসপাতালে আসেন। তৃণমূল পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করতে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে কিডনি স্ক্রিনিং বাধ্যতামূলক করার দাবি জানান তিনি।
কিডনি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক হারুন আর রশিদ সভাপতির বক্তব্যে বলেন, বর্তমানে দেশের ১ শতাংশ মানুষ কিডনি রোগের পঞ্চম স্তরে বা চুড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ডায়ালাইসিসের খরচ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে হওয়ায় তিনি সরকারি উদ্যোগে বিনামূল্যে ডায়ালাইসিস সেবা প্রদানের আহ্বান জানান।
এবারের কিডনি দিবসের স্লোগান ‘সুস্থ কিডনি সকলের তরে মানুষের যত্নে বাঁচাও ধরণীরে’। দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভার আগে একটি সচেতনতামূলক র্যালির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে কিডনি ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. রুহুল আমিন রুবেল ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিনী ফেরদৌস রশীদ উপস্থিত ছিলেন।

















