আন্তর্জাতিক

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনির মৃত্যু

১ মার্চ ২০২৬, ৬:৩৩:১০

খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করলেন ট্রাম্প | মধ্যপ্রাচ্যে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত

প্রভাতী বার্তাকে গুগল পছন্দে যুক্ত করুন!

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এক বিশাল পটপরিবর্তন! মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রভাবশালী এবং আলোচিত ব্যক্তিত্ব, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বেশ কিছুদিন ধরে খামেনির স্বাস্থ্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছিল, ট্রাম্পের এই আকস্মিক বিবৃতির মাধ্যমে অবসান ঘটলো সেই গুঞ্জনের। এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সবচেয়ে বড় খবর এটি। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ইরানের ক্ষমতার মূল কেন্দ্রে থাকা এই নেতার মৃত্যুতে শুধু ইরান নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

১৯৮৯ সালে ইসলামী বিপ্লবের রূপকার রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর থেকে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। দীর্ঘ এই শাসনামলে তিনি ইরানের রাষ্ট্র ব্যবস্থা, সামরিক বাহিনী এবং বিচার বিভাগের ওপর একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন। তাঁর নেতৃত্বেই ইরান বেশ কয়েকবার যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের সাথে চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে জড়িয়েছে। ৮৬ বছর বয়সী এই নেতার শারীরিক অবস্থা নিয়ে গত কয়েক বছর ধরেই নানা শঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছিল। এমনকি একাধিকবার তাঁর মৃত্যুর গুজবও ছড়িয়েছিল, যা ইরান সরকার বরাবরই গোপন রাখার চেষ্টা করেছে।

ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর বিশ্বজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। হোয়াইট হাউসের এই বিবৃতির পর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও নড়েচড়ে বসেছে। পশ্চিমা বিশ্ব অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। অন্যদিকে, ইরানের সাধারণ মানুষের মাঝে বিরাজ করছে এক চাপা উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা। সবার মনে এখন একটাই প্রশ্ন—পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা কে হবেন? ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞদের একটি কমিটি বা ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ নতুন নেতা নির্বাচন করবেন। তবে এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে দেশটির শাসনভার কীভাবে পরিচালিত হবে এবং নতুন নেতৃত্বের অধীনে ইরানের কট্টরপন্থী পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ঘোষণায় বিস্তারিত না জানালেও, মার্কিন প্রশাসন যে কড়া নজর রাখছে তা স্পষ্ট। এখন পর্যন্ত ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বা সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি আসেনি। তবে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আয়াতুল্লাহ খামেনির এই প্রস্থান যে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে, তা নিশ্চিত। পুরো বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে তেহরানের দিকে।

প্রভাতী বার্তার সর্বশেষ খবর পেতে
Google News অনুসরণ করুন
Follow ★

আরও খবর:

বিবিধ