২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:০৭:৩২
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিম (১৩) হত্যার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজনসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাদের আটক করার পর হত্যাকাণ্ডের শিকার অপ্রতিমের মায়ের সেই বহুল কাঙ্ক্ষিত আইফোনটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার দিবাগত রাতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন সালমানপুর এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আইফোনটি উদ্ধার করে জেলা পুলিশের একটি বিশেষ দল। আটককৃতরা হলেন—তুহিন, আনাস ও ফাহিম আহমেদ। এদের মধ্যে তুহিনকে এই হত্যাকাণ্ডে সন্দিগ্ধ হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং বাকি দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার বিকেলে কোটবাড়ি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোনটি নিয়ে বের হয় অপ্রতিম। এরপর সে আর বাসায় ফেরেনি। নিখোঁজের পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ। ফুটেজে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে দক্ষিণ মোড়ের সানন্দা এলাকা পর্যন্ত টুপি ও সাদা শার্ট পরিহিত তুহিন নামে এক কিশোরের সঙ্গে অপ্রতিম হাঁটছিল।
এই ক্লু ধরে প্রথমে তুহিনকে আটক করা হয়। পরে তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিমকে আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, তুহিনের বাসা থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাই হওয়া সেই আইফোনটি। তদন্ত কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, মূলত আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই অপ্রতিমকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
এর আগে, শনিবার দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। অপ্রতিম স্থানীয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার দম্পতির একমাত্র সন্তান ছিল।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান জানিয়েছেন, এই স্পর্শকাতর হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য জানাতে আজ (রবিবার) দুপুর ১২টায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এই ঘটনার পেছনে আইফোন ছাড়াও অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এদিকে একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে অপ্রতিমের পরিবারে বইছে শোকের মাতম। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও স্থানীয়দের মাঝে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অপ্রতিমের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

















