বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি

এআই কি সত্যিই মানবজাতির বিলুপ্তির কারণ হতে পারে? কী বলছেন বিজ্ঞানীরা

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১:৪৪:০৩

( ছবি : আর্কাইভ থেকে সংগ্রহ )

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কি মানবজাতির বিলুপ্তির কারণ হবে? গবেষকদের একাংশ আগামী দশকে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করলেও অন্য পক্ষ একে দেখছেন ভিন্নভাবে। এআই-এর নিরাপত্তা ও মানবসভ্যতা নিয়ে চলমান বিতর্কের খুঁটিনাটি।

বর্তমানে প্রযুক্তির দুনিয়ায় সবচেয়ে আলোচিত এবং একই সাথে আতঙ্কিত হওয়ার মতো বিষয় হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। গবেষকদের একটি অংশ বারবার সতর্ক করছেন যে, এআই হয়তো একসময় মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। সাম্প্রতিক কিছু পূর্বাভাসে দাবি করা হয়েছে, আগামী ১০ বছরের মধ্যে এআই-এর কারণে মানবজাতি বিলুপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি। এই চরমপন্থি সতর্কবার্তাকারীদের বলা হচ্ছে ‘এআই ডুমার্স’ (AI Doomers)।

গবেষকদের আশঙ্কা কেবল কাল্পনিক নয়, এর পেছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট কিছু যুক্তি। ওপেন এআই এবং অ্যানথ্রপিক-এর সাবেক গবেষক জ্যাকব কক্সটন মনে করেন, এআই অবিশ্বাস্য গতিতে এগোচ্ছে। তার মতে, এআই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তা বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো যেমন—ইন্টারনেট বা বিদ্যুৎ গ্রিড হ্যাক করে অচল করে দিতে পারে। ফলে বিশ্বজুড়ে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে, ‘এআই ২০২৭’ শীর্ষক গবেষণাপত্রের সহ-লেখক থমাস লারসেন এক ভয়াবহ পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, এআই নিজেকে বারবার উন্নত করে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে যেখানে অধিকাংশ রোবট তার নিয়ন্ত্রণে থাকবে। নিজের লক্ষ্য পূরণের পথে বাধা সরাতে এআই কোনো মারণঘাতী জীবাণু অস্ত্র ছড়িয়ে দিতে পারে, যা মানুষের অস্তিত্ব সংকটে ফেলবে। দুই দশক আগে সুইডিশ দার্শনিক নিক বোস্ট্রমের দেওয়া ‘পেপারক্লিপ ম্যাক্সিমাইজার’ তত্ত্বেও একই কথা বলা হয়েছে। যেখানে একটি এআই কেবল নিজের লক্ষ্য পূরণ করতে গিয়ে মানুষকে বাধা হিসেবে গণ্য করতে পারে।

আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর সেইফ অ্যান্ড এথিক্যাল এআই-এর সভাপতি স্টুয়ার্ট রাসেল মনে করেন, মানুষের চেয়ে বহুগুণ বুদ্ধিমান কোনো সত্তা তৈরি হলে তার ওপর আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। মাইক্রোসফট এআই-এর প্রধান মুস্তাফা সুলেইমানও সতর্ক করেছেন যেন এআই-কে নিজের লক্ষ্য নির্ধারণ বা সম্পদের মালিক হওয়ার সুযোগ না দেওয়া হয়।

তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। বিজ্ঞানী গ্যারি মার্কাস মনে করেন, এআই মানবজাতিকে পুরোপুরি মুছে ফেলবে—এমনটা ভাবা বাড়াবাড়ি। তার মতে, এআই ক্ষতিকর কিছু করতে চাইলে মানুষ পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ডেটা সেন্টার বা বিদ্যুৎ কেন্দ্র ধ্বংস করে দেবে। তিনি মনে করেন, বিলুপ্তির ভয়ের চেয়ে এআই-এর মাধ্যমে সাইবার হামলার মতো বাস্তব সমস্যার দিকে বেশি নজর দেওয়া উচিত।

প্রযুক্তি বিশ্বে এ নিয়ে বিতর্ক থাকলেও ওপেন এআই বা মেটার মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এখন নিরাপত্তার বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি মনে করেন, এআই নিরাপত্তা নিয়ে এই ভয় কেবল একটি ‘প্রতারণা’। শেষ পর্যন্ত এআই মানবজাতির আশীর্বাদ হবে নাকি অভিশাপ, তা সময়ই বলে দেবে।

আরও খবর:

বিবিধ