আন্তর্জাতিক

মার্কিন সিনেটের ২৩৭ বছরের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সদস্য আবদুল আল-সাইয়েদ

৪ নভেম্বর ২০২৬, ৮:০০:৪৯

মার্কিন সিনেটের ২৩৭ বছরের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সদস্য আবদুল আল-সাইয়েদ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের ২৩৭ বছরের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদ সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছেন। এর মাধ্যমে ১৭৮৯ সালে মার্কিন সিনেটের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর প্রথম কোনো মুসলিম সদস্য হিসেবে উচ্চকক্ষে প্রতিনিধিত্ব করার গৌরব অর্জন করলেন তিনি।

প্রভাতী বার্তাকে গুগল পছন্দে যুক্ত করুন!

নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের শক্ত প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করে জয় ছিনিয়ে নেন ৪২ বছর বয়সী মিসরীয় বংশোদ্ভূত এই রাজনীতিক। তিনি সম্প্রতি অবসরে যাওয়া ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের আসনে জয়লাভ করলেন। এর আগে ডেমোক্রেটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ বাছাই প্রক্রিয়াতেও তিনি নিজ দলের প্রভাবশালী প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করেছিলেন।

পেশায় চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আল-সাইয়েদের শৈশব কাটে মিশিগানের রচেস্টার হিলসে। শিক্ষাজীবনে অত্যন্ত মেধাবী আল-সাইয়েদ ২০০৭ সালে ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান থেকে স্নাতক শেষ করেন। এরপর বিশ্বখ্যাত রোডস স্কলার হিসেবে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে ডক্টরেট এবং পরবর্তীতে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। রাজনীতিতে পূর্ণাঙ্গ প্রবেশের আগে তিনি ডেট্রয়েট শহর ও ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।

রাজনৈতিক ময়দানে আল-সাইয়েদ তাঁর স্পষ্ট ও প্রগতিশীল অবস্থানের জন্য পরিচিত। সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা চালু, সাধারণ মানুষের আবাসন ব্যয় কমানো এবং শ্রমজীবী পরিবারের অর্থনৈতিক সুরক্ষার দাবিতে প্রচার চালিয়ে তিনি সাধারণ ভোটারদের মন জয় করেন। এ ছাড়া পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এবং নিঃশর্ত মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবি তুলে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনায় আসেন।

নির্বাচনী প্রচারের সময় বার্নি স্যান্ডার্স, আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ ও রাশিদা তালিবের মতো প্রগতিশীল মার্কিন নেতাদের জোরালো সমর্থন পান আল-সাইয়েদ। বিপরীতে ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ রিপাবলিকান শিবিরের তোপের মুখেও পড়তে হয় তাঁকে। তবে সব বাধা পেরিয়ে মার্কিন আইনসভার উচ্চকক্ষে স্থান করে নিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্থাপন করলেন।

(ছবি সূত্র: রয়টার্স)

প্রভাতী বার্তার সর্বশেষ খবর পেতে
Google News অনুসরণ করুন
Follow ★

আরও খবর:

বিবিধ