শিক্ষা ও সাহিত্য

নিয়োগপত্র না পেয়ে অনিশ্চয়তায় ১২০০ শিক্ষক প্রার্থী, পুনঃযাচাইয়ের দাবি

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৩:৪০

Follow Us: Facebook | YouTube
G প্রভাতী বার্তাকে গুগল পছন্দে যুক্ত করুন!

প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকায় থেকেও নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীরা ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া পুনঃযাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন। ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিয়োগপত্র না দিলে কঠোর কর্মসূচির ইঙ্গিত দিয়ে ৫ দফা দাবি পেশ করেছেন তারা।

 সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পেয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় গভীর অনিশ্চয়তা ও চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন কয়েক হাজার প্রার্থী। ভেরিফিকেশনের নামে কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই অনেক যোগ্য প্রার্থীকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তারা। এই পরিস্থিতিতে বাদ পড়া প্রার্থীদের নথি পুনরায় যাচাই এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা। একইসঙ্গে, আটকে থাকা নিয়োগপত্র আগামী ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীরা এই দাবি ও উদ্বেগের কথা জানান।


প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিয়োগের চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়া সত্ত্বেও প্রশাসনিক যাচাই-বাছাই বা পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে অনেক যোগ্য প্রার্থীকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের তথ্যের বরাত দিয়ে তারা দাবি করেন, প্রায় ১ হাজার ২০০ প্রার্থীর নিয়োগপত্র বর্তমানে ঝুলে আছে। এই প্রার্থীদের অনেকেই মনে করছেন, কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই বা ছোটখাটো প্রশাসনিক ভুলের কারণে তাদের ভাগ্য অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। প্রার্থীরা স্পষ্ট করেছেন যে, তারা কোনো অনিয়মকারী বা অযোগ্য প্রার্থীর হয়ে সুপারিশ করছেন না, বরং কোনো নিরপরাধ যোগ্য প্রার্থী যেন প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে বঞ্চিত না হয়, সেটিই তাদের মূল দাবি।


দীর্ঘ আট মাস আগে নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হলেও এখনো চাকরিতে যোগ দিতে না পারায় অনেক প্রার্থী ভয়াবহ মানসিক ও আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন। বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীদের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে বলা হয়, চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পর নিশ্চিত চাকরির আশায় অনেকে তাদের আগের বেসরকারি চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। অনেকে অন্য সরকারি চাকরির সুযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রাথমিককে প্রাধান্য দিয়ে সেখানে যোগ দেননি। এখন নিয়োগপত্র না পাওয়ায় তাদের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। অনেক প্রার্থীর সরকারি চাকরির আবেদনের বয়সসীমাও শেষের পথে, ফলে এটিই ছিল তাদের শেষ ভরসা।


উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে এবং যোগ্যদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে প্রার্থীরা পাঁচটি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করেছেন। দাবিগুলো হলো:
১. ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া প্রত্যেক প্রার্থীর নথি একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পুনরায় যাচাই করতে হবে।
২. প্রার্থীদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে এবং প্রশাসনিক আপিল করার ব্যবস্থা রাখতে হবে।
৩. কোনো প্রকার প্রশাসনিক ভুল থাকলে তা দ্রুত সংশোধন করতে হবে।
৪. চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত অথচ নিয়োগপত্র স্থগিত থাকা প্রার্থীদের বিষয়ে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নিয়োগপত্র ইস্যু করতে হবে।
৫. নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এমন অস্পষ্টতা ও দীর্ঘসূত্রতার কারণ এবং কতজন প্রার্থী কেন বাদ পড়লেন, তার একটি সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।

💬 WhatsApp Follow f Facebook Follow ⚡ Messenger প্রভাতী বার্তাকে গুগল পছন্দে যুক্ত করুন!


বর্তমানে সারা দেশে ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তীব্র শিক্ষক সংকট বিরাজ করছে। অনেক স্কুলে পর্যাপ্ত শিক্ষকের অভাবে স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, নবনির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন শিক্ষক দ্রুত নিজ নিজ বিদ্যালয়ে যোগ দিলে প্রাথমিক শিক্ষার বেহাল দশা কাটবে এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার গতি ফিরে আসবে।


উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়, যেখানে মোট ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থী নির্বাচিত হন। স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ডোপ টেস্টের কাজ দ্রুত সম্পন্ন হলেও মাঠপর্যায়ের তথ্য যাচাই বা পুলিশ ভেরিফিকেশনে অতিরিক্ত সময় ব্যয় হয়। এর ওপর দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং কয়েক দফায় ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া চলার কারণে পুরো নিয়োগ কার্যক্রম দীর্ঘায়িত হয়েছে। এখন সাধারণ প্রার্থীদের একটাই চাওয়া, সব জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত যেন তারা শিক্ষক হিসেবে শ্রেণিকক্ষে ফিরতে পারেন।

প্রভাতী বার্তার সর্বশেষ খবর পেতে
Google News অনুসরণ করুন
Follow ★

Follow Us: Facebook | YouTube

আরও খবর:

বিবিধ