৭ অক্টোবর ২০২৬, ২:৫০:০১
নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সার্বিক সেবার মান ও অভ্যন্তরীণ পরিবেশ দৃশ্যমানভাবে বদলে গেছে। নানা উদ্যোগ, কার্যকর তদারকি ও প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে কার্যালয়টিতে দালালের দৌরাত্ম্য বন্ধ হয়েছে। ফলে সাধারণ আবেদনকারীরা কোনো রকম অতিরিক্ত টাকা ও হয়রানি ছাড়াই সরাসরি সরকারি ফি দিয়ে পাসপোর্টের আবেদন জমা দিতে পারছেন।
সম্প্রতি কার্যালয়টি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, প্রধান প্রবেশদ্বার থেকেই আবেদনকারীদের করণীয়, প্রয়োজনীয় নথিপত্রের তালিকা ও দিকনির্দেশনা সাউন্ড বক্স ও বড় এলইডি ডিসপ্লের মাধ্যমে অবিরত প্রচার করা হচ্ছে। দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর সহায়তা না নিয়ে সরাসরি নিজের আবেদন জমা দেওয়ার জন্য সেবাগ্রহীতাদের আহ্বান জানাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
অফিসের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে চারজন আনসার সদস্যের নিরাপত্তাবলয় তৈরি করা হয়েছে। বিনা প্রয়োজনে অফিসে অতিরিক্ত লোকজনের উপস্থিতি ও আড্ডা দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পাশাপাশি দ্বিতীয় তলায় উপপরিচালকের নিজ কক্ষ সেবাগ্রহীতাদের যেকোনো অভিযোগ বা পরামর্শের জন্য খোলা রাখা হয়েছে। ব্যাংকে সরকারি ফি পরিশোধ করে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার খুব অল্প সময়ের মধ্যেই গ্রাহকদের চোখ, আঙুলের ছাপ ও বায়োমেট্রিক তথ্য নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে। কোনো আবেদনে সাময়িক সংশোধন দরকার হলে তাৎক্ষণিক সমাধানের দায়িত্বেও কর্মকর্তারা নিয়োজিত রয়েছেন।
অফিসের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালক আবু নাঈম মাসুম জানান, প্রতিদিনের আবেদন যাতে ওই দিনই নিষ্পত্তি করা যায় সে লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে। পুরো কার্যালয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। একইসঙ্গে গোপন কোডিং নামের বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার এবং সাংবাদিক পরিচয়ে দালালির অপচেষ্টা প্রতিরোধে নথিপত্র ও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
সেবা নিতে আসা কয়েকজন আবেদনকারী জানান, পূর্বে পাসপোর্ট অফিসে ব্যাপক ভোগান্তি ও অনিয়মের কথা শোনা গেলেও বর্তমানে সেই পরিবেশ নেই। নিজেরাই বায়োমেট্রিক ও আবেদন সম্পন্ন করে সন্তোষ নিয়ে ফিরেছেন তারা।

















