২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪:০৪:৪৬
ইউরোপে উন্নত ভবিষ্যতের আশায় ইউরোপমুখী বেপরোয়া অভিবাসনের ক্ষেত্রে আবারও উঠে এসেছে এক অত্যন্ত বিপজ্জনক সমুদ্রপথের নাম— ‘ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ রুট’। পশ্চিম আফ্রিকার উপকূল থেকে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে স্পেনের অধীনস্থ ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছানোর এই ঝুঁকিপূর্ণ পথে ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে বাংলাদেশি অভিবাসীদের উপস্থিতি। দালাল চক্রের প্রলোভনে পড়ে বহু তরুণ এই দুর্গম পথ বেছে নিয়ে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছেন এবং আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের শিকার হচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক সূত্র এবং অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্প্রতি ভূমধ্যসাগরীয় এবং মধ্য ইউরোপের ঐতিহ্যবাহী রুটগুলোতে সীমান্ত নিরাপত্তা অত্যন্ত কঠোর করা হয়েছে। ফলে পাচারকারী চক্রগুলো এশিয়ান ও আফ্রিকান অভিবাসীদের ইউরোপে প্রবেশের বিকল্প পথ হিসেবে আফ্রিকা মহাদেশের উত্তর-পশ্চিম উপকূল ব্যবহার করছে। মৌরিতানিয়া, সেনেগাল বা মরক্কোর মতো আফ্রিকান দেশগুলো থেকে ছোট ও জরাজীর্ণ নৌকায় করে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপে নিয়ে যাওয়ার লোভ দেখায় আন্তর্জাতিক পাচারকারী সিন্ডিকেটগুলো।
তবে এই ক্যানারি রুট বিশ্বজুড়ে অন্যতম বিপজ্জনক সমুদ্রপথ হিসেবে পরিচিত। উন্মুক্ত আটলান্টিক মহাসাগরের প্রচণ্ড ঢেউ, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং সপ্তাহের পর সপ্তাহ নৌকায় আটকে থাকার কারণে অনেক অভিবাসী মাঝপথেই পানিশূন্যতা ও অপুষ্টিতে ভুগে প্রাণ হারান। বহু ক্ষেত্রে ট্রলার ডুবে গিয়ে সলিল সমাধি ঘটে শত শত মানুষের।
পাচারকারী চক্রগুলো বাংলাদেশি তরুণদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়ে তাদেরকে উন্নত জীবন ও ইউরোপের নাগরিকত্বের প্রলোভন দেখায়। এরপর আফ্রিকা হয়ে দুর্গম রুট দিয়ে তাদের ক্যানারি দ্বীপে পাঠায়, যেখান থেকে স্পেনের মূল ভূখণ্ডে পৌঁছানোর কোনো সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা থাকে না। ফলে অনেক তরুণই দ্বীপে আটক হন কিংবা আইনি জটিলতার মুখোমুখি হন।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, মানবপাচারকারী চক্রগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং জনগণকে এ ধরনের অনিয়মিত ও জীবনঘাতী অভিবাসনের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে সচেতন করা জরুরি। একইসঙ্গে বৈধ উপায়ে কাজের সন্ধানে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ সহজতর করার ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
















