২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪:২০:৫০
ফিফার ক্ষমতার অপব্যবহার রুখতে এবং প্রশাসনিক কাঠামোতে স্বচ্ছতা আনতে একজোট হয়েছে ইউরোপের শীর্ষ চার ফুটবল লিগ। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, লা লিগা, সিরি ‘আ’ ও বুন্দেসলিগা যৌথ বিবৃতিতে ফিফার নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় আমূল পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে।
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার বর্তমান শাসনব্যবস্থা ও প্রশাসনিক কাঠামোতে বড় ধরনের সংস্কারের দাবি তুলেছে ইউরোপের চার শীর্ষ ফুটবল শক্তি। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, স্পেনের লা লিগা, ইতালির সিরি ‘আ’ এবং জার্মানির বুন্দেসলিগা একজোট হয়ে ফিফার ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে কঠোর নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে লিগগুলো বিশ্ব ফুটবলের বর্তমান প্রশাসনিক নীতি নিয়ে তাদের চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে।
মূলত ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামক একটি বিশেষ বাণিজ্যিক সত্তা গঠন এবং সেখানে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগকে কেন্দ্র করেই এই অস্থিরতা শুরু হয়। তীব্র আপত্তির মুখে ফিফা সেই উদ্যোগ স্থগিত রাখতে বাধ্য হলেও ইউরোপীয় লিগগুলো একে ‘ফিফার ইতিহাসে ক্ষমতার সবচেয়ে বড় অপব্যবহার’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
এএফপিকে পাঠানো বিবৃতিতে লিগগুলো জানিয়েছে, ‘ফিফার সাংবিধানিক কাঠামোর সীমানা স্পষ্ট করতে মৌলিক সংস্কার এখন সময়ের দাবি। এমন এক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে যেখানে ব্যক্তিবিশেষের শাস্তিমূলক বিষয়গুলো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত থাকবে।’ তারা আরও যোগ করে যে, ফিফার অবিরাম সম্প্রসারণবাদী নীতি ক্লাব ও লিগ ফুটবলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো পুরুষ ও নারী বিশ্বকাপে বেসরকারি অর্থায়ন যুক্ত করার লক্ষ্যে এফএফই পরিকল্পনা করেছিলেন। সমালোচনার মুখে তিনি সংস্কারের আশ্বাস দিলেও চার শীর্ষ লিগ তাকে ‘যথেষ্ট নয়’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের মতে, শুধু উপরে উপরে পরিবর্তন করলেই হবে না, বরং ফুটবলের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় লিগ, ক্লাব ও খেলোয়াড়দের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে একটি স্থায়ী সংস্থা গঠন করতে হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৭ সালের ১৮ মার্চ ফিফার পরবর্তী সভাপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের বিজয়ী হওয়ার ১০০ দিনের মধ্যে প্রস্তাবিত নীতিগুলো বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করার আহ্বান জানিয়েছে লিগগুলো। আগামী ১৮ নভেম্বর চূড়ান্ত মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময় থাকলেও এখন পর্যন্ত বর্তমান সভাপতি ইনফান্তিনোই একক প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে রয়েছেন।
ফিফার এই অভ্যন্তরীণ কোন্দলে বিশ্ব ফুটবল এখন দুই ভাগে বিভক্ত। উয়েফা, কনক্যাক্যাফ ও এশীয় ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) ইতিমধ্যেই ইনফান্তিনোর সমালোচনা করে তাকে চিঠি দিয়েছে। অন্যদিকে, ২০৩৪ বিশ্বকাপের আয়োজক সৌদি আরবসহ আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থাগুলো এখনও বর্তমান সভাপতির পাশেই রয়েছে।

















