১ নভেম্বর ২০২৬, ৬:০৭:১৩
দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে শুরু হচ্ছে ব্যাটারিচালিত ই-রিকশার নিবন্ধন। ঢাকায় চলবে আটটি অঞ্চলের আলাদা রঙের রিকশা। জানুন ফি, গতিসীমা ও নতুন বিধিমালা।
দেশের সড়ক পরিবহনব্যবস্থা সুশৃঙ্খল করতে এবং ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যানবাহন নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশের মোট ১৩টি সিটি করপোরেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে ব্যাটারিচালিত ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম। তবে প্রাথমিকভাবে চালকদের লাইসেন্স দেওয়ার পরিবর্তে যানবাহনের নিবন্ধনে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। গত রোববার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ নতুন বিধিমালার নানা দিক তুলে ধরেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
ঢাকায় আট অঞ্চলে চলবে আট রঙের রিকশা
রাজধানীতে অনিয়ন্ত্রিত রিকশা চলাচল বন্ধ করতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকাকে চারটি করে মোট আটটি অঞ্চলে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি অঞ্চলের ই-রিকশার জন্য নির্দিষ্ট করা থাকবে ভিন্ন ভিন্ন রং। নিয়ম অনুযায়ী, এক অঞ্চলে নিবন্ধিত রিকশা অন্য অঞ্চলে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে চালানো যাবে না। কোন অঞ্চলে কতটি ই-রিকশা চলাচলের অনুমতি পাবে, তা ট্রাফিক বিভাগের সাথে আলোচনা করে সিটি করপোরেশন নির্ধারণ করবে।
চালকদের লাইসেন্স আপাতত নয়, কার্যকর হবে পরিচয়পত্র
নতুন বিধিমালায় চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিধান রাখা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে না। প্রতিমন্ত্রী জানান, একযোগে লাখ লাখ চালককে লাইসেন্স দেওয়ার মতো প্রশাসনিক সক্ষমতা আপাতত না থাকায় নিবন্ধন প্রক্রিয়া কিছুটা এগোলে চালকদের লাইসেন্সের জন্য আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। মধ্যবর্তী সময়ে ই-রিকশার মালিকেরা চালকদের সাময়িক পরিচয়পত্র দেবেন। এছাড়া একজন ব্যক্তির নামে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশা নিবন্ধনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
নিবন্ধন ফি, মেয়াদ ও ফিটনেস সংক্রান্ত নিয়ম
নিবন্ধিত প্রতিটি ই-রিকশার মেয়াদ নির্ধারিত হয়েছে ১২ বছর। যানবাহনে কিউআর কোড যুক্ত নম্বরপ্লেট থাকবে, যেখানে মালিক, চালক ও অনুমোদিত অঞ্চলের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। নিবন্ধন ও নবায়ন ফিসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো:
এসব ফি যানবাহনের মালিককে পরিশোধ করতে হবে। একই সাথে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী বর্তমানে চলাচলকারী রিকশাগুলোর কাঠামোগত পরিবর্তন ও ফিটনেস সনদ নিশ্চিত করতে হবে।
গতিসীমা ও চলাচলের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি
ই-রিকশার জন্য সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার। তবে হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনবহুল এলাকায় এই গতি নেমে আসবে ১৫ কিলোমিটারে। সব রিকশায় গতি ও দূরত্বমাপক যন্ত্র থাকা বাধ্যতামূলক। জাতীয় মহাসড়ক, বাস চলাচলের প্রধান সড়ক ও এক্সপ্রেসওয়েতে এসব রিকশা চলাচল পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্ধারিত ভাড়াও ট্রাফিক বিভাগ ও সিটি করপোরেশনের সমন্বয়ে কিলোমিটারপ্রতি ঠিক করা হবে।
অনুমোদিত চার্জিং স্টেশন ও পর্যায়ক্রমিক প্রয়োগ
ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার স্টেশনগুলোকে ট্রেড লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে এমন স্টেশনে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। সরকার জানিয়েছে, হঠাৎ করে রিকশা উঠিয়ে না দিয়ে পর্যায়ক্রমে নিবন্ধনের মাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো হবে। এক মাস পর এই কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

















