স্বাস্থ্য

নারায়ণগঞ্জে শয্যা সংকট: মেঝেতেই চলছে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১:৫৫:০১

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। জেলায় আশঙ্কাজনক হারে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ায় হাসপাতালগুলোতে চরম শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, হাসপাতালে ঠাঁই না পেয়ে অনেক রোগীকে মেঝেতে শুয়েই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

প্রভাতী বার্তাকে গুগল পছন্দে যুক্ত করুন!

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার) জেলায় নতুন করে ৩৩ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৮৫ জনে। বিশেষ করে চলতি সেপ্টেম্বর মাসে সংক্রমণের গতি ছিল লক্ষ্যণীয়। জেলা ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালেই এই মাসে ১৫১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন, যা গত আগস্টে ছিল ১১৯ জন। বর্তমানে এই হাসপাতালে ৩০ জনের বেশি রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাসপাতাল থেকে প্রাপ্ত পরিসংখ্যান বলছে, নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গুর দাপট বিগত কয়েক বছর ধরেই অব্যাহত। ২০২৩ সালে ১ হাজার ৩১ জন এবং এর আগের বছরগুলোতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আক্রান্তের খবর পাওয়া গিয়েছিল। তবে স্বস্তির খবর হিসেবে সরকারি নথিতে এ বছর জেলায় ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর রেকর্ড নেই। যদিও স্থানীয়দের দাবি, অনেক রোগী উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা বা বেসরকারি ক্লিনিকে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন, যা সরকারি এই পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

এদিকে, মশক নিধনে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন তাদের ২৭টি ওয়ার্ডে বিশেষ অভিযান ও হটস্পট চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছে। তবে নগরবাসীর অভিযোগ ভিন্ন। তাদের দাবি, নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে না এবং ড্রেন-ডোবাগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করার ফলে এডিস মশার বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গু উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ সেবন করা উচিত নয়। পাশাপাশি বাড়ির আঙিনা ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা জরুরি। ডেঙ্গু সংক্রমণ রোধে জনসচেতনতাই এখন প্রধান হাতিয়ার বলে মনে করছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

প্রভাতী বার্তার সর্বশেষ খবর পেতে
Google News অনুসরণ করুন
Follow ★

আরও খবর:

বিবিধ