প্রবাস

কলকাতায় হোটেল কড়াকড়ি: চরম বিপাকে বাংলাদেশি রোগীরা

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:৪১:০৩

ছবি : সংগৃহীত

G প্রভাতী বার্তাকে গুগল পছন্দে যুক্ত করুন!

কলকাতার বিভিন্ন হোটেল ও গেস্টহাউসে অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনের কড়াকড়ি ও সাঁড়াশি অভিযানের ফলে তীব্র আবাসন সংকটে পড়েছেন চিকিৎসা নিতে যাওয়া বাংলাদেশি রোগীরা। সস্তার হোটেলগুলো বন্ধ থাকায় অনেক রোগীকে বাধ্য হয়ে ফুটপাতে রাত কাটাতে হচ্ছে, যা দুই দেশের চিকিৎসা পর্যটনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

গত ১৯ আগস্ট কলকাতার মারকুইস স্ট্রিটের একটি বেসরকারি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাতজন বাংলাদেশিসহ নয়জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ওই দুর্ঘটনার পর নড়েচড়ে বসে কলকাতা পৌরসভা। শহরজুড়ে অবৈধ হোটেল ও গেস্টহাউসগুলোর বিরুদ্ধে শুরু হয় ব্যাপক তল্লাশি। পৌরসভার প্রাথমিক পরিদর্শনের পর অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র না থাকায় প্রায় ৯১৯টি হোটেল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। পার্ক স্ট্রিট, এসপ্ল্যানেড, সদর স্ট্রিট এবং ই এম বাইপাস সংলগ্ন এলাকার বাজেট হোটেলগুলো এর ফলে বন্ধ রয়েছে।

অধিকাংশ বাংলাদেশি রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা কম খরচে থাকার জন্য এসপ্ল্যানেড বা হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকার ছোট হোটেল ও গেস্টহাউসগুলোর ওপর ভরসা করেন। কিন্তু প্রশাসনিক কড়াকড়ির জেরে এসব অতিথিশালা আকস্মিকভাবে বন্ধ করে দেওয়ায় এবং খোলা থাকা হাতে গোনা কিছু হোটেলের ভাড়া বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন স্বল্পবিত্তের রোগীরা। অনেককে রাতে মালপত্রসহ রাস্তায় নেমে পড়তে হয়েছে।

এই পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশি রোগীদের মধ্যে কলকাতায় চিকিৎসা করাতে যাওয়ার আগ্রহ কমছে। অনেকেই এখন দিল্লি, চেন্নাই বা বেঙ্গালুরুর মতো বিকল্প শহরের দিকে ঝুঁকছেন। স্থানীয় ভাতের হোটেল, ওষুধ বিক্রেতা, মানি এক্সচেঞ্জ ও ট্রাভেল এজেন্টদের ব্যবসাও এই অচলাবস্থার কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

💬 WhatsApp Follow f Facebook Follow ⚡ Messenger প্রভাতী বার্তাকে গুগল পছন্দে যুক্ত করুন!

পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতিমধ্যে কলকাতার করপোরেট হাসপাতালগুলো উদ্যোগী হয়েছে। উডল্যান্ডসসহ বিভিন্ন হাসপাতালের পক্ষ থেকে নিরাপদ ও অনুমোদিত হোটেলের তালিকা প্রস্তুত করে বাংলাদেশ থেকে আসা রোগীদের জন্য আগাম বুকিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে ছোট ও মাঝারি হোটেল ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র পাওয়ার জটিলতা দ্রুত সমাধান না হলে কলকাতার এই চিকিৎসা অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির মুখে পড়বে।

প্রভাতী বার্তার সর্বশেষ খবর পেতে
Google News অনুসরণ করুন
Follow ★

আরও খবর:

বিবিধ