২১ আগস্ট ২০২৬, ৬:৩৫:২৭
ঢাকা: দেশের ২৪তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক এক নির্বাচনে ২৫৫ ভোট পেয়ে তিনি বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর অর্থাৎ ১৯৯১ সালের পর বাংলাদেশে আবারও ব্যালটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, গত ২৪ জুলাই সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন। সেই শূন্যতা পূরণে বৃহস্পতিবার বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদ কক্ষে ভোট গ্রহণ করা হয়।
ভোটের সমীকরণ
জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন সদস্যের মধ্যে ৩৪৩ জন এই নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। ৬ জন সংসদ সদস্য বিভিন্ন কারণে ভোটদানে বিরত ছিলেন। এদের মধ্যে বিদেশে অবস্থান ও অসুস্থতার কারণে বিএনপির মির্জা আব্বাস, ওসমান ফারুক এবং মোস্তফা কামাল পাশা ভোট দিতে পারেননি। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ভোটদান থেকে বিরত থেকে এই নির্বাচনকে ‘অর্থহীন’ বলে মন্তব্য করেছেন। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরুল ইসলাম এবং বিদেশে থাকায় খেলাফত মজলিসের আবুল হাসান ভোট দেননি।
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরপরই প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে লাল গোলাপ দিয়ে অভিনন্দন জানান। সংসদ কক্ষে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ দেখা যায়। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতারাও মির্জা ফখরুলকে শুভেচ্ছা জানান।
ইসলামী আন্দোলনের সমর্থন
নির্বাচনের আগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একমাত্র সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ ভোট না দেওয়ার ঘোষণা দিলেও শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদল করেন। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিএনপি সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল এবং ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার আশ্বাস দেওয়ায় তারা মির্জা ফখরুলকে ভোট দিয়েছেন।
নির্বাচন পরিচালনা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। রাতে নির্বাচন কমিশন থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। দেশের নতুন অভিভাবক হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দায়িত্ব গ্রহণকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একটি স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখছেন।

















