২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৮:৪১:০০
প্রভাতী বার্তা প্রতিবেদন: নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) নতুন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আলোচিত সাত খুন মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিগত সরকারের পতনের পর এই পরিবর্তন নারায়ণগঞ্জের প্রশাসনিক কাঠামোতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪-এর বিধান অনুযায়ী নির্বাচিত করপোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি এই পদে বহাল থাকবেন। গত ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে ১৯ আগস্ট দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়রদের অপসারণ করে প্রশাসক বসানো হয়। সেই ধারাবাহিকতায় নাসিকের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে অপসারণ করে প্রথমে এএইচএম কামরুজ্জামান ও পরে আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এবার তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন বিএনপি নেতা সাখাওয়াত হোসেন খান।
অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান সারা দেশে ব্যাপক পরিচিতি পান ২০১৪ সালে নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুন মামলার পর। সে সময় খুনের বিচার ও অভিযুক্ত র্যাব কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারের দাবিতে তিনি উচ্চ আদালতে রিট করেন। তাঁর সাহসী আইনি লড়াইয়ের কারণেই অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার ও বিচারের মুখোমুখি হন। এছাড়া শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের বিরুদ্ধে আইনি সুরক্ষা দিতেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। ২০১৬ সালের নাসিক নির্বাচনে তিনি বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
৫৮ বছর বয়সী এই বর্ষীয়ান নেতার রাজনীতির হাতেখড়ি আশির দশকে ছাত্রদলের মাধ্যমে। তোলারাম কলেজের ছাত্রদল কর্মী থেকে শুরু করে তিনি জেলা ও মহানগর বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও দুই মেয়াদে সভাপতি ছিলেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের নির্যাতনের স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান, ফ্যাসিবাদের আমলে তিনি অন্তত ৬-৭ বার কারাবরণ করেছেন। তাঁর ছেলেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং রাজনৈতিক কারণে তাঁর বিরুদ্ধে ৭২টি বানোয়াট মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তবে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তিনি এসব হয়রানিমূলক মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি মুন্সিগঞ্জের ব্যবসায়ী ফজল খান ও হোসনে আরা খানম দম্পতির সন্তান। তাঁর স্ত্রী শামীমা আক্তারও একজন আইনজীবী এবং ছেলে শাহরিয়ার খান লন্ডনে অধ্যয়নরত।
নতুন প্রশাসকের দায়িত্ব পেয়ে সাখাওয়াত হোসেন খান নারায়ণগঞ্জকে একটি আধুনিক, পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী আমি দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার কল্যাণে কাজ করব।’ শহরের যানজট, ধুলাবালি, কিশোর গ্যাং এবং মাদকের মতো দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা সমাধানে তিনি ৫০ থেকে ৬০ দিনের একটি বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণের কথা জানিয়েছেন। তাঁর লক্ষ্য, শীতলক্ষ্যা নদীর দুই পাড়ের বিভক্তি ঘুচিয়ে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, যাতে চিকিৎসার জন্য কাউকেই ঢাকায় ছুটতে না হয়। সাখাওয়াত হোসেন আরও বলেন, এই শহর থেকে দেশের জাতীয় আয়ের একটি বড় অংশ এলেও অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে নাগরিকরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত স্মার্ট নারায়ণগঞ্জ উপহার দেওয়াই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।

















