২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:০৮:১৯
জ্বালানিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে এলপি গ্যাসের কোনো সংকট নেই বলে জানালেন অপারেটররা। আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের আমদানির হিসাব, বাজারের অভিযোগ ও মন্ত্রীর নির্দেশনা ।
প্রভাতী বার্তা ডেস্ক | ঢাকা |
দেশের বাজারে এলপি গ্যাসের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছেন এলপিজি আমদানিকারক ও অপারেটররা। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তাঁরা এ আশ্বাস দেন। তবে মজুত থাকা সত্ত্বেও যেন ভোক্তা পর্যায়ে সরবরাহে ঘাটতি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেছেন মন্ত্রী।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সভাটির আয়োজন করে। সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রী নিজেই। দেশে এলপিজি আমদানি কেমন হচ্ছে, মজুত ও সরবরাহের অবস্থা কী এবং বাজারদর কোথায় দাঁড়িয়েছে, তা পর্যালোচনা করাই ছিল বৈঠকের উদ্দেশ্য। মন্ত্রণালয়ের পাঠানো বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সভায় এলপিজি খাতের সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, গত আগস্টে দেশে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। চলতি সেপ্টেম্বরের ২২ তারিখ পর্যন্ত এসেছে ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৪২ মেট্রিক টন। এই হিসাব দেখিয়ে সভায় বলা হয়, জোগান ও মজুত পরিস্থিতি ভালো। অপারেটরদের ভাষ্য, তাই এই মুহূর্তে সংকটের কোনো কারণ নেই।
মন্ত্রী বলেন, “পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও গ্রাহক পর্যায়ে যেন সরবরাহের ঘাটতি না হয়, সেদিকে নজর রাখতে হবে।” অসৎ উদ্দেশ্যে কেউ যেন এলপিজি মজুত করে জনদুর্ভোগ তৈরি না করে, সে বিষয়েও সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি। অপারেটররা সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
সভায় ব্যবসা পরিচালনায় অপারেটরদের নানা প্রতিবন্ধকতার কথাও শোনেন মন্ত্রী। সেগুলো দ্রুত সমাধানে তিনি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগকে নির্দেশ দেন। এলপিজি আমদানির পথে যেকোনো বাধা সরাতে মন্ত্রণালয় সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলেও জানান তিনি। মানুষের জীবনযাত্রা সহজ রাখতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে, আর জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সবার সহযোগিতা চান মন্ত্রী।
মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যের বাইরে বাজারের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। কয়েকদিন ধরে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সিলিন্ডার না পাওয়ার অভিযোগ করছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা। বিক্রেতাদের কেউ কেউ বলছেন, কয়েকটি ব্র্যান্ডের সিলিন্ডারই তাঁরা সরবরাহ পাচ্ছেন না। ১২ কেজির সিলিন্ডার দুই হাজার টাকা বা তার বেশি দামে বিক্রির খবরও এসেছে।
অথচ বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সেপ্টেম্বরের জন্য ১২ কেজির সিলিন্ডারের খুচরা দাম ঠিক করেছে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। আগস্টে এই দাম ছিল ১ হাজার ৫৯৮ টাকা। অর্থাৎ নির্ধারিত দামের চেয়ে বাজারদর অনেক বেশি।
মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে দেশে বর্তমানে মোট কতটুকু এলপিজি মজুত আছে, তার পরিমাণও উল্লেখ করা হয়নি।

















