৪ নভেম্বর ২০২৬, ৯:৩৭:২৪
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় শ্রমিক অসন্তোষ ও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের করা মামলায় ২১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০০০ থেকে ১৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা এই মামলায় নিষিদ্ধঘোষিত রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা-কর্মী ও উসকানিদাতাদের প্রধান হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) ভোররাতে ফতুল্লা মডেল থানায় এই মামলাটি রেকর্ড করা হয়। এর আগে গত মঙ্গলবার বিকেলে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের সময় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৮৩ রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষের সময় ইট-পাটকেলের আঘাতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হন।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম জানান, দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করা এবং সরকার উৎখাতের উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কিছু নেতা-কর্মী শ্রমিকদের উসকে দিয়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। আন্দোলনকারীরা সড়কে আগুন জ্বালিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় এবং পুলিশের ওপর হামলা চালায়।
এজাহারে নাম থাকা অভিযুক্তদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোস্তফা কামাল, সদস্য মজিবর রহমান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি টিপু সুলতান এবং যুবলীগ নেতা আজমত আলী, মোফাজ্জল হোসেন চুন্নু ও রাকিব হোসেন। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে আটক শামীম হাসান, মো. মামুন, ওমর ফারুক, ইমান ইমন, শাহিন আহম্মেদ ও আতিকুর রহমানসহ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ জানান, আদালত আসামিদের রিমান্ড শুনানির জন্য আগামী ৯ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন এবং গ্রেপ্তারকৃতদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

















