জাতীয়

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের আত্মনির্ভরশীলতা ও রোহিঙ্গা সমাধানের বার্তা

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:০৯:৪২

G প্রভাতী বার্তাকে গুগল পছন্দে যুক্ত করুন!

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ: রোহিঙ্গা সংকট ও প্রযুক্তিবৈষম্য দূর করার আহ্বান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে জনগণের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে দেশকে একটি আত্মনির্ভরশীল ও শক্তিশালী রাষ্ট্রে রূপান্তর করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বিশ্বমঞ্চে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তিগত বৈষম্য দূর করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সাধারণ পরিষদের এই উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে বিশ্বনেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে দেশের সার্বিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল সত্যিকারের উন্নয়ন এবং স্বনির্ভরতা অর্জন সম্ভব। জনগণের অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থা কায়েম করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একটি বৈষম্যহীন ও প্রগতিশীল সমাজ গঠনে কাজ করে যাচ্ছে।

ভাষণে দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া লাখ লাখ রোহিঙ্গার নিরাপদ, সম্মানজনক এবং স্থায়ী প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যৌথ দায়িত্ব। দীর্ঘ দিন ধরে এই সংকট জিইয়ে রাখা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। তাই রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে জাতিসংঘের পাশাপাশি বিশ্বমোড়লদের আরও কার্যকর ও বাস্তবমুখী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

বর্তমান যুগের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে প্রযুক্তিবৈষম্যের প্রসঙ্গটিও উঠে আসে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে। তিনি বলেন, উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের মধ্যকার প্রযুক্তিগত ব্যবধান দিন দিন বাড়ছে, যা বৈশ্বিক সমতা অর্জনে বড় বাধা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির সুফল যেন কেবল গুটিকয়েক দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং সব দেশের সমমানের সুযোগ নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি। প্রযুক্তির সহজলভ্যতা এবং বৈষম্যহীন বিস্তার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

💬 WhatsApp Follow f Facebook Follow ⚡ Messenger প্রভাতী বার্তাকে গুগল পছন্দে যুক্ত করুন!

জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও সুশাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ইস্যুগুলোতে বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ শান্তি, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পক্ষে অবিচল রয়েছে। দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। জাতিসংঘে দেওয়া এই ভাষণ দেশের আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘের এই অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যেসব প্রস্তাব ও দাবি তুলে ধরা হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা সংকটের আন্তর্জাতিকীকরণ এবং প্রযুক্তিখাতে সমতার দাবি বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। অধিবেশন শেষে বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেও এসব বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রভাতী বার্তার সর্বশেষ খবর পেতে
Google News অনুসরণ করুন
Follow ★

আরও খবর:

বিবিধ