২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:২৩:৩৫
প্রভাতী বার্তাকে গুগল পছন্দে যুক্ত করুন!
নারায়ণগঞ্জে প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানের হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও সড়কের অবৈধ দখল কমছে না। অবৈধ বাসস্ট্যান্ড, ফুটপাত দখল এবং লাখো ব্যাটারিচালিত রিকশার চাপে শহরটি এখন যানজটের নগরীতে পরিণত হয়েছে।
প্রশাসনের কঠোর হুঁশিয়ারি আর মাঝে মাঝে উচ্ছেদ অভিযান চললেও নারায়ণগঞ্জে সড়কের দখলদারিত্ব বন্ধ হচ্ছে না। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে যানজট নিরসনে কড়া বার্তা দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন সামান্যই। ফলে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে চালানো অবৈধ কর্মকাণ্ডের জেরে নগরজুড়ে তীব্র যানজট ও জনদুর্ভোগ নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রেলগেট ও অবৈধ বাসস্ট্যান্ডের দাপট
শহরের যানজটের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে ২ নম্বর রেলগেটের অবৈধ বাসস্ট্যান্ড। সড়কের বিশাল অংশ জুড়ে বাস দাঁড়িয়ে থাকায় অন্যান্য যানবাহনের চলাচলের জায়গা সরু হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের এই সমস্যার সমাধানে প্রশাসনিক তৎপরতার কথা বলা হলেও বাস্তবে এই স্ট্যান্ড সরানোর কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। ফলে নগরীর প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ বাড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
লাখ ছাড়িয়েছে ব্যাটারিচালিত রিকশা
নারায়ণগঞ্জবাসীর অভিযোগ, শহরে বর্তমানে ব্যাটারিচালিত মিশুক ও অটোরিকশার সংখ্যা লাখ ছাড়িয়েছে। যদিও এর কোনো সঠিক সরকারি পরিসংখ্যান নেই, তবুও এই বিশাল সংখ্যক অবৈধ যানের চাপে শহর কার্যত অচল হয়ে পড়ছে। যত্রতত্র চলাচল ও যান্ত্রিক ত্রুটিপূর্ণ এসব যানের কারণে সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
ফুটপাত ও পার্কিং সংকট
পথচারীদের হাঁটার জন্য নির্ধারিত ফুটপাতগুলো এখন হকারদের দখলে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হকাররা পসরা সাজিয়ে বসে থাকায় মানুষ বাধ্য হয়ে মূল সড়কে নেমে হাঁটছেন। এতে করে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। অন্যদিকে, অভিযোগ রয়েছে যে নগরীর ৯০ শতাংশ বহুতল ভবনে নিজস্ব পার্কিংয়ের ব্যবস্থা নেই। ফলে ব্যক্তিগত গাড়িগুলো সড়কেই রাখা হচ্ছে, যা সড়ককে আরও সংকুচিত করছে।
প্রশাসনের বার্তা ও বাস্তবের ফারাক
সম্প্রতি জেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে যানজট নিরসনে কঠোর অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে। তবে এই অভিযান কবে শুরু হবে বা এর দীর্ঘমেয়াদী রূপরেখা কী হবে, তা এখনো অস্পষ্ট। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট সময়সূচি বা উচ্ছেদ পরবর্তী পরিকল্পনা না আসায় মানুষের মধ্যে সংশয় কাটছে না।
নগরবাসীর মতে, উচ্ছেদ অভিযান শেষে আবারও দখলদাররা ফিরে আসছে। কারা এই দখলদারিত্বের পেছনে মদদ দিচ্ছে, তাদের পরিচয় অস্পষ্ট থাকলেও ভোগান্তির দায় সাধারণ মানুষকেই নিতে হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জের রাস্তাঘাট স্বাভাবিক ও চলাচলের উপযোগী করতে হলে কেবল সতর্কবার্তা নয়, বরং সাঁড়াশি অভিযানের পাশাপাশি তার স্থায়ী তদারকি প্রয়োজন।

















