১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:০০:৫৯
প্রভাতী বার্তা ডেস্ক:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৫১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৪২টি দল কোনো আসনেই জয় পায়নি। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘোষিত ফল বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। বড় দলকেন্দ্রিক মেরুকরণ ও জোটভিত্তিক নির্বাচনের কারণে ছোট ও নতুন দলগুলো প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইসি ইতোমধ্যে ২৯৭টি আসনের ফল ঘোষণা করেছে। একটি আসনে ভোট স্থগিত রয়েছে এবং আরও দুটি আসনের ফল প্রার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।
ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ২৯৭টি আসনের মধ্যে
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জয় পেয়েছে ২০৯টি আসনে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন।
এনসিপি জয়ী হয়েছে ৬টি আসনে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পেয়েছে ২টি আসন।
এ ছাড়া একটি করে আসন পেয়েছে ইসলামী আন্দোলন, গণ-অধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন ও খেলাফত মজলিস। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন ৭টি আসনে।
সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব পাচ্ছে মাত্র ৯টি রাজনৈতিক দল ও কয়েকজন স্বতন্ত্র সদস্য। বাকি ৪২টি দলের জন্য এবারের নির্বাচন হয়ে থাকল শূন্য প্রাপ্তির অধ্যায়।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে মোট প্রার্থী ছিলেন ২,০২৮ জন। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের মনোনীত ১,৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র ২৭৩ জন।
নারী প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ৮৩ জন—দলীয় ৬৩ ও স্বতন্ত্র ২০।
পুরুষ প্রার্থী ছিলেন ১,৯৪৫ জন—দলীয় ১,৬৯২ ও স্বতন্ত্র ২৫৩।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে বড় দুই জোটকে ঘিরে তীব্র মেরুকরণ তৈরি হয়। অনেক ক্ষেত্রে কৌশলগত ভোটিং হয়েছে, যেখানে ভোটাররা সম্ভাব্য জয়ী প্রার্থীকে বেছে নিয়েছেন। ফলে শতাধিক আসনে প্রার্থী দিলেও অনেক ছোট ও মাঝারি দল শেষ পর্যন্ত কোনো আসন পায়নি।
শূন্য ফল পাওয়া দলগুলোর মধ্যে রয়েছে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), জাতীয় পার্টি-জেপি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), জাসদ, বাসদ, গণফোরাম, জাগপা, বিএনএফ, এনডিএম, বাংলাদেশ কংগ্রেস, এবি পার্টি, বিএমজেপি, বিআরপি, জনতার দল, আমজনতার দলসহ আরও বহু নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল।
ফলাফল বলছে, এবারের নির্বাচনে ক্ষমতার ভারসাম্য মূলত বড় জোটকেন্দ্রিক দলগুলোর হাতেই কেন্দ্রীভূত হয়েছে। ছোট দলগুলোর জন্য সামনে সাংগঠনিক পুনর্গঠন ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।

















