১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৪:৪৫:৪৭
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর দুই আইনজীবীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার ভোররাতে শহরের আল্লামা ইকবাল রোড ও দেওভোগ পাক্কা রোড এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের একটি পুরোনো সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় সন্দিগ্ধ হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি ও আবৃত্তিশিল্পী অ্যাডভোকেট জিয়াউল ইসলাম কাজল, সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর মো. আসাদুজ্জামানের ছেলে আইনজীবী মাহবুবুর রহমান তুষার এবং জিয়াউল ইসলাম কাজলের ভাই আতিকুল ইসলাম।
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানান, মঙ্গলবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত সিদ্ধিরগঞ্জের তুহিন হত্যা মামলায় সাবেক মেয়র আইভী নারায়ণগঞ্জের দায়রা জজ আদালতে জামিন পান। শুনানি শেষে আদালত চত্বর ত্যাগ করার সময় আইভী মন্তব্য করেন, “জয় বাংলাকে দমিয়ে রাখা যাবে না।” একই সময় আদালত প্রাঙ্গণে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের সমর্থনে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়া হয়।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, এই স্লোগান দেওয়ার ঘটনার জেরেই পুরোনো মামলার এজাহারে নাম না থাকা সত্ত্বেও তদন্তের স্বার্থে তাদের সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে গ্রেপ্তার আইনজীবীদের সহকর্মী ও স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীরা গ্রেপ্তারের ঘটনাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, অ্যাডভোকেট কাজল ও তুষার পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে আদালতে নথিপত্র হাতে নিয়ে হাজির ছিলেন। তারা কোনো রাজনৈতিক স্লোগান দেননি।
নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের উপদেষ্টা রফিউর রাব্বি বলেন, “অ্যাডভোকেট কাজল সব সময় শহরের সন্ত্রাস, দখলদারত্ব ও কিশোর ত্বকী হত্যার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে এসেছেন। এমনকি চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানেও তিনি ছাত্র-জনতার পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন। পুলিশ যে যুক্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করেছে তা পুরোপুরি ভিত্তিহীন। আমরা অবিলম্বে তার মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।”

















