আন্তর্জাতিক

রোহিঙ্গা সংকটকে পাশ কাটিয়ে মিয়ানমার জান্তা প্রধানকে মালয়েশিয়ার লাল গালিচা সংবর্ধনা!

৮ অক্টোবর ২০২৬, ১:১৯:৩৪

মালয়েশিয়ায় মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংয়ের রাষ্ট্রীয় সফর ও জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনা নিয়ে মানবাধিকার মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। রোহিঙ্গা ও অন্যান্য মিয়ানমার নাগরিকদের প্রত্যাবাসন এই সফরের মূল এজেন্ডা হলেও সমালোচকরা একে সামরিক শাসকের বৈধতা আদায়ের কৌশল হিসেবে দেখছেন।

প্রভাতী বার্তাকে গুগল পছন্দে যুক্ত করুন!

মালয়েশিয়ার মাটিতে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংকে দেওয়া জাঁকজমকপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মহলে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। গত ৭ অক্টোবর ভোরে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (KLIA) পৌঁছানোর পর মিয়ানমারের এই নেতাকে রেড কার্পেট, গার্ড অব অনার এবং পুলিশ মোটরসাইকেল এসকর্টসহ বিশাল প্রটোকলে গ্রহণ করা হয়।

বার্নামা ও মিয়ানমারের প্রেসিডেন্সিয়াল প্রেস ব্যুরোর ভিডিওতে দেখা যায়, মিয়ানমার এয়ারওয়েজ ইন্টারন্যাশনালের একটি বিশেষ বিমানে কুয়ালালামপুরে অবতরণ করেন মিন অং হ্লাইং। বিমানবন্দরে তাকে আনুষ্ঠানিক গার্ড অব অনার প্রদান করা হয় এবং পরবর্তীতে কালো রঙের বিএমডব্লিউ (BMW) গাড়িবহরের মাধ্যমে তাকে গন্তব্যে নিয়ে যাওয়া হয়। সফরের দ্বিতীয় দিন ৮ অক্টোবর পুত্রাজায়ার পারদানা পুত্রা কমপ্লেক্সে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান। সেখানে ফার্স্ট ব্যাটালিয়ন ও রয়্যাল রেঞ্জার রেজিমেন্টের সদস্যদের গার্ড অব অনার পরিদর্শন করেন তিনি। অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দুই দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফরের মূল আলোচ্য বিষয় হলো মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে অবস্থানরত মিয়ানমার নাগরিকদের ‘স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপদ’ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা। উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ায় বর্তমানে ২ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা সহ কয়েক লক্ষ মিয়ানমার নাগরিক অবস্থান করছেন। মালয়েশিয়া জাতিসংঘের শরণার্থী কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ না হওয়ায় অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মুখে এই বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে কুয়ালালামপুর।

তবে এই সফর ও সংবর্ধনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (UNHCR) এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। তাদের মতে, ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারে এখনো গৃহযুদ্ধ চলছে, যেখানে প্রায় ১ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৩৫ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে মিয়ানমার নাগরিকদের ফেরত পাঠানো হলে তারা নিপীড়ন ও জোরপূর্বক সামরিক নিয়োগের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সমালোচকরা বলছেন, আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে হওয়া মিন অং হ্লাইং এই সফরের মাধ্যমে তার শাসনের বৈধতা আদায়ের চেষ্টা করছেন।

২০২১ সাল থেকে আসিয়ান (ASEAN) শীর্ষ সম্মেলনগুলো থেকে বাদ পড়া মিন অং হ্লাইং গত এপ্রিলে এক বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। এরপর থাইল্যান্ড, লাওস, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামের পর মালয়েশিয়া তার পঞ্চম আসিয়ান সফর। মালয়েশিয়া সরকার অবশ্য এই সফরকে মিয়ানমারের সংকট সমাধানে একটি ‘গঠনমূলক ও নীতিগত সম্পৃক্ততা’ হিসেবে দাবি করছে।

প্রভাতী বার্তার সর্বশেষ খবর পেতে
Google News অনুসরণ করুন
Follow ★

আরও খবর:

বিবিধ