অর্থনীতি

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বাংলাদেশের ঝুঁকি কতটুকু?

২ মার্চ ২০২৬, ১:৫৭:২৪

বিশ্বজুড়ে এখন একটাই প্রশ্ন—মধ্যপ্রাচ্যের এই গুমোট হাওয়া শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামবে? নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ঘনীভূত হওয়ায় বিশ্ব রাজনীতি আবারও এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সমীকরণ, ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি এবং আরব বিশ্বের সতর্ক ও শঙ্কাগ্রস্ত অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। কয়েকদিন ধরেই এই অঞ্চলে চলছে পাল্টাপাল্টি হুমকি, সামরিক প্রস্তুতি এবং কূটনৈতিক বাকযুদ্ধ। ওয়াশিংটনের দাবি, তারা শুধু নিজেদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে চায়। অন্যদিকে তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তাদের ওপর কোনো আঘাত এলে তার কড়া জবাব দেওয়া হবে। এই দুই পক্ষের রেষারেষিতে আরব দেশগুলোও চরম অস্বস্তিতে পড়েছে। কারণ, সংঘাত যদি ছড়িয়ে পড়ে, তবে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের ওপর দিয়ে বড় রকমের ঝড় বয়ে যাবে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সংকটের শিকড় অনেক গভীরে। শুধু সামরিক শক্তি প্রদর্শন নয়, পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তার এবং দীর্ঘদিনের ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এর পেছনে মূল ইন্ধন জোগাচ্ছে। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে তা শুধু দু-একটি দেশের মধ্যে আটকে থাকবে না, বরং তা ভয়াবহ আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

এদিকে আরব বিশ্ব বেশ কৌশলী অবস্থান নিয়েছে। তারা নিজেদের নিরাপত্তা যেমন বাড়াচ্ছে, তেমনি সরাসরি কোনো পক্ষে জড়াতে চাইছে না। তবুও শঙ্কা কাটছে না, কারণ যুদ্ধ বাধলে জ্বালানি অবকাঠামো ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রুট চরম হুমকির মুখে পড়বে। এর প্রভাব সরাসরি গিয়ে পড়বে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। মধ্যপ্রাচ্য হলো বিশ্বের প্রধান তেল সরবরাহ কেন্দ্র। এখানকার সামান্য অস্থিরতা বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়িয়ে দেয়। ইতোমধ্যেই দামের ওঠানামা শুরু হয়েছে। সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়বে এবং বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা খাবে।

বাংলাদেশের জন্য এই সংকট কেবল টিভির পর্দার খবর নয়, বরং এর সরাসরি প্রভাব রয়েছে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে। প্রথমত, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে আমদানি ব্যয় বাড়বে, যা দেশের অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ ফেলবে। দ্বিতীয়ত এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত লাখো প্রবাসী বাংলাদেশির নিরাপত্তা। সেখানে কোনো অস্থিরতা তৈরি হলে তাদের আয় ও জীবনের ওপর ঝুঁকি আসবে, যা আমাদের রেমিট্যান্স প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করবে। এই মুহূর্তে পুরো বিশ্বের নজর মধ্যপ্রাচ্যের দিকে। সবাই চাইছে আলোচনার টেবিলে বসে এই সংকটের সমাধান হোক। কিন্তু সামরিক মহড়া আর পাল্টাপাল্টি হুংকারে সেই সম্ভাবনা কতটুকু টিকবে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয়। উত্তেজনা কি শেষ পর্যন্ত সংলাপে থামবে, নাকি মানবসভ্যতা আরও একটি ধ্বংসাত্মক সংঘাতের সাক্ষী হবে? উত্তরের অপেক্ষায় পুরো বিশ্ব।

আরও খবর:

বিবিধ