১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬:৪৬:৩০
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বিদেশফেরত এক যাত্রীকে অপহরণের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে থানা পুলিশ। অভিযানে ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস, ৮টি নকল গাড়ির নম্বরপ্লেট, ২টি ওয়াকিটকি ও ৩টি দা উদ্ধার করা হয়েছে। আহত দু’জনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে রূপগঞ্জ থানার পূর্বাচল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই (নিঃ) হারুনুর রশিদ সঙ্গীয় ফোর্সসহ পূর্বাচল-৫৩ এলাকায় ডিউটিতে ছিলেন। এ সময় মোবাইল ফোনে খবর পান, রূপগঞ্জ ইউনিয়নের ৩০০ ফিট ল্যাংটা মাজার গোলচত্বর থেকে কাঞ্চনমুখী ১০০ মিটার পূর্বে মহাসড়কে একটি প্রাইভেটকারের গতিরোধ করা হয়েছে।
ঢাকা মেট্রো-গ-২৩-১৯০৮ নম্বরের প্রাইভেটকারে করে বিমানবন্দর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন বিদেশফেরত যাত্রী সুমন মিয়া। অভিযোগ, পেছন থেকে আসা সিলভার রঙের একটি হাইচ মাইক্রোবাস (রেজি: ঢাকা মেট্রো-চ-১২-২২৯৯) গাড়িটির পথরোধ করে। সেখান থেকে ৬/৭ জন ব্যক্তি নেমে নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে সুমনকে জোরপূর্বক তাদের গাড়িতে তুলে নেয়।
খবর পেয়ে এসআই হারুনুর রশিদ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মাইক্রোবাসটিকে ধাওয়া করেন। ধাওয়া খেয়ে পালানোর সময় মাইক্রোবাসটি প্রথমে একটি ট্রাককে পেছন দিক থেকে ধাক্কা দেয়। এতে গাড়িটির সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা সুমনকে ধাক্কা দিয়ে সড়কে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
পরে রূপগঞ্জ থানার ৩ নম্বর সেক্টরের প্রগতি স্কুলের সামনে মাইক্রোবাসটি ফেলে ৭/৮ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি পালিয়ে যায়। পরিত্যক্ত গাড়ি তল্লাশি করে পুলিশ একটি কালো ব্যাগের ভেতর থেকে ৮টি নকল নম্বরপ্লেট উদ্ধার করে। এর মধ্যে ছিল—
এছাড়া উদ্ধার করা হয় ২টি ওয়্যারলেস সদৃশ ওয়াকিটকি, ৩টি দা ও ৩টি লাঠি। পুলিশ জানায়, মাইক্রোবাসটির সামনে ও পেছনের নম্বরপ্লেটও ছিল নকল।
ঘটনার সময় প্রাইভেটকারের চালক মোজাহিদ খাঁ ও যাত্রী সুমন মিয়াকে মারধর করা হয়। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়।
রূপগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশের ধারণা, একটি সংঘবদ্ধ চক্র পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি ও অপহরণে জড়িত থাকতে পারে।

















