রাজনীতি

নির্বাচনি ইশতেহারে শিক্ষার জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরল বিএনপি

২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২৮:১৪

নির্বাচনি ইশতেহারে বিএনপি শিক্ষাব্যবস্থার জন্য সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার ও পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যার মধ্যে এক শিক্ষক এক ট্যাব, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, কারিগরি শিক্ষা এবং মিড-ডে মিল অন্তর্ভুক্ত।
নির্বাচনি ইশতেহারে শিক্ষার জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরল বিএনপি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে শিক্ষা খাতের জন্য সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার ও পরিকল্পনা তুলে ধরেছে।
‘আনন্দময় শিক্ষা, দক্ষ জনশক্তি ও আধুনিক বাংলাদেশ’ শিরোনামে ঘোষিত এই পরিকল্পনায় প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও দক্ষতাভিত্তিক করে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

ইশতেহারে বলা হয়েছে, শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে “এক শিক্ষক, এক ট্যাব” কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আধুনিক ও সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে ট্যাবলেট কম্পিউটার সরবরাহ করা হবে।

শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। শিক্ষামূলক ছবি, ভিডিও, তথ্যচিত্র ও অনলাইন কনটেন্টের মাধ্যমে পাঠদান, নৈতিক শিক্ষা এবং কারিকুলামভিত্তিক জ্ঞান অর্জনে এই ক্লাসরুমগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে উল্লেখ করা হয়।

বিএনপি তাদের ইশতেহারে আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে টিমওয়ার্ক, ব্যক্তিগত দক্ষতা উন্নয়ন, পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধ এবং নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষাকে আনন্দদায়ক করে তোলার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।

এছাড়া কর্মসংস্থান ও বৈশ্বিক যোগাযোগ বাড়াতে মাধ্যমিক পর্যায় থেকে বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালুর অঙ্গীকার করা হয়েছে। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আরবি, জাপানিজ, কোরিয়ান, ইতালিয়ান বা ম্যান্ডারিন ভাষা শেখানোর সুযোগ থাকবে।

ইশতেহারে আরও বলা হয়েছে, সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা আত্মকর্মসংস্থান ও বিদেশে চাকরির সুযোগ অর্জন করতে পারে।

শিক্ষার্থীদের সর্বাঙ্গীণ বিকাশের জন্য পাঠ্যক্রমে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি শিক্ষার অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। ফুটবল, ক্রিকেট, সাঁতারসহ বিভিন্ন খেলাধুলার পাশাপাশি সংগীত, নৃত্য ও নাটককে শিক্ষাব্যবস্থার অংশ করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট এবং পর্যায়ক্রমে সারাদেশে ‘মিড-ডে মিল’ (দুপুরের খাবার) চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া শিক্ষাব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে শিক্ষকদের গুরুত্ব দিয়ে মেধাবী শিক্ষক গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। শিক্ষকতা পেশায় মেধাবীদের আকৃষ্ট করতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি, আর্থিক সুবিধা ও সামাজিক মর্যাদা বাড়ানোর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও খবর:

বিবিধ