১১ অক্টোবর ২০২৬, ৪:১১:২৯
সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় ২ বাংলাদেশিসহ ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হয়েছেন।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩০৯ জন। হামলার পর নিরাপত্তা বজায় রাখতে বিমানবন্দরটির যাবতীয় কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি ঢাকা থেকেও বিমানের নির্ধারিত ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে।
সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (জিএসিএ) এক বিবৃতিতে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নিশ্চিত করেছে। এতে জানানো হয়, নিহত ১২ জনের মধ্যে সৌদি আরবের ৪ জন, বাংলাদেশের ২ জন এবং যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের ১ জন করে নাগরিক রয়েছেন।
হামলার দায় স্বীকার ও কারণ
হামলার পরপরই ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি এ হামলার দায় স্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের অব্যাহত বিমান হামলা ও বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের জবাব হিসেবে রিয়াদের বিমানবন্দরে এই হামলা চালানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাসমূহ জানায়, রিয়াদ বিমানবন্দরে এক সপ্তাহের মধ্যে এটি ছিল হুতিদের তৃতীয় দফা হামলা। এর আগের হামলায় চারজন নিহত হন এবং রানওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, কোনো ধরনের পূর্বসতর্কতা ছাড়াই হামলাটি সংঘটিত হয়। সৌদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চোখ এড়িয়ে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে বিস্ফোরণ ঘটে। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বিমানবন্দরের ৪০১ নম্বর গেটের কাছে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং টার্মিনালের ছাদের একাংশ ভেঙে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো বিমানবন্দরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং শত শত যাত্রী ছোটাছুটি শুরু করেন।
ঘটনাস্থলে জরুরি ভিত্তিতে বহু অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছায়। আহতদের রক্তাপ্লুত অবস্থায় উদ্ধার করে রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসা সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আহতের সংখ্যা অতিরিক্ত হওয়ায় হাসপাতালের চিকিৎসকদের জরুরি ভিত্তিতে তলব করা হয়। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ফ্লাইট বাতিল ও স্থবিরতা
হামলার পর অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও বিমানবন্দরের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব ধরনের ফ্লাইট কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ফ্লাইট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘ফ্লাইটরাডার২৪’-এর তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর রিয়াদগামী ও রিয়াদ থেকে প্রস্থানকারী অন্তত ৩১৬টি ফ্লাইট বাতিল করা হয় এবং ২২২টিরও বেশি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়। রিয়াদগামী ফ্লাইটগুলোকে কাছের বিকল্প বিমানবন্দরগুলোতে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। নিরাপত্তা শঙ্কায় বাংলাদেশ বিমানসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স রিয়াদগামী তাদের বেশ কয়েকটি ফ্লাইট স্থগিত করেছে।
বাড়ছে আঞ্চলিক উত্তেজনা
রিয়াদে হামলার কিছু সময় পর দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছেও একটি বস্তু আছড়ে পড়ে বলে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পরবর্তীতে রিয়াদের দক্ষিণ-পূর্বে আকাশে আরও একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইন্টারসেপ্ট করে ধ্বংস করার দাবি করে সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনী। এই ধারাবাহিক হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ছবি ও সংবাদের তথ্যসূত্র: রয়টার্স, এএফপি ।

















