জাতীয়

জাপানে ১ কোটি ১০ লাখ কর্মীর চাহিদা, ৭ দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে কর্মপরিকল্পনা

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫:৪৯:১৮

জাপানে বাংলাদেশি কর্মী পাঠাতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে রোববার প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জাপানে ক্রমেই জনসংখ্যা কমে আসছে। এই প্রেক্ষাপটে ২০৪০ সালের মধ্যে দেশটিতে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ যুব কর্মীর প্রয়োজন হতে পারে। সম্ভাবনাময় এই বিশাল শ্রমবাজার ধরতে দ্রুত কর্মপরিকল্পনা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী সাত দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা প্রণয়ন করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে উপস্থাপন করা হবে।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্যাহ ভূঁইয়া। উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।

সভায় জানানো হয়, জাপানের শ্রমবাজারে দক্ষ ও আধা-দক্ষ জনশক্তির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ২৩ লাখ অতিরিক্ত যুব শ্রমশক্তি রয়েছে। এই বিপুল জনশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করে জাপানসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

follow-google-news-provati-barta

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে মূলত অদক্ষ শ্রমিক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে পরিচিত। এ অবস্থা থেকে বের হয়ে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানিতে জোর দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। জাপানের নির্দিষ্ট কিছু ট্রেডে কর্মীর চাহিদা বাড়ায় সেই অনুযায়ী প্রশিক্ষণ কাঠামো আরও শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে ৩৩টি টিটিসিতে জাপানমুখী প্রশিক্ষণ চালু থাকলেও বর্তমানে আরও ২০টি টিটিসি যুক্ত করে মোট ৫৩টিতে জাপানি ভাষা শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তবে জাপানি ভাষা শিক্ষকের ঘাটতি থাকায় দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রায় ২০০টি বেসরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও জনশক্তি প্রেরণকারী এজেন্সিগুলোর সম্পৃক্ততা বাড়িয়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার কথাও উঠে আসে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে ভাষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে এবং দুই কর্মদিবস পর অগ্রগতি পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্টেকহোল্ডার, প্রশিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে মতবিনিময় সভা আয়োজন করে সুপারিশমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকারের লক্ষ্য—অন্যান্য দেশের আগে জাপানের শ্রমবাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করা এবং দক্ষ বাংলাদেশি জনশক্তির নতুন দিগন্ত উন্মোচন।

আরও খবর:

বিবিধ