
প্রভাতী বার্তা নিউজ ডেস্ক:
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় চলমান ভূমি জরিপ কার্যক্রমকে ঘিরে চরম ভোগান্তি ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। জরিপ সংক্রান্ত প্রকাশিত তালিকা ও বিজ্ঞপ্তি থাকলেও সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনার অভাবে সাধারণ ভূমি মালিকরা নানা জটিলতার মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয়দের দাবি, জরিপ কার্যক্রমে অংশ নিতে গিয়ে একেক সময় একেক ধরনের কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে। কোনো নির্দিষ্ট তালিকা বা সরকারি নির্দেশনা স্পষ্টভাবে জানানো হচ্ছে না। ফলে অনেকেই বারবার দৌড়ঝাঁপ করেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে নিশ্চিত হতে পারছেন না।
ভূমি মালিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, হালনাগাদ খাজনা পরিশোধের রশিদ এবং নামজারি সংক্রান্ত কাগজপত্রই সাধারণত জমির মালিকানা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে কর্মকর্তারা অতিরিক্তভাবে মূল দলিল, বায়া দলিলসহ বিভিন্ন পুরনো কাগজ দেখতে চাইছেন, যা অনেক ক্ষেত্রে সংগ্রহ করা কঠিন। এতে অযথা সময় ও অর্থ নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, মাঠ পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তা নিজেদের মতো করে নিয়ম নির্ধারণ করছেন। সরকারি কোনো লিখিত নির্দেশনা দেখাতে না পারলেও তারা অতিরিক্ত কাগজপত্র দাবি করছেন, যা ভূমি মালিকদের কাছে হয়রানিমূলক আচরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে, জরিপের তারিখ ও সময় নিয়েও রয়েছে অস্পষ্টতা। স্থানীয়ভাবে মাইকিং বা মসজিদের মাধ্যমে প্রচার করলে সবাই আগাম তথ্য জানতে পারতেন বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। কিন্তু পর্যাপ্ত প্রচারণার অভাবে অনেকেই নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থাকতে পারছেন না। ফলে অনেকে জরিপ কার্যক্রম থেকে বাদ পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগী ভূমি মালিকরা বলছেন, “যদি নির্দিষ্টভাবে বলা হতো কোন কোন কাগজ লাগবে এবং কখন কোথায় যেতে হবে, তাহলে এত ভোগান্তি হতো না।”
তারা দ্রুত একটি স্পষ্ট নির্দেশিকা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন, যেখানে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা ও জরিপের সময়সূচি পরিষ্কারভাবে উল্লেখ থাকবে। একই সঙ্গে জরিপ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনারও দাবি তুলেছেন তারা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, যথাযথ তদারকি ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকলে এই ধরনের হয়রানি কমানো সম্ভব এবং ভূমি জরিপ কার্যক্রম আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করা যাবে।
www.provatibarta.net www.facebook.com/provatibarta.online www.youtube.com/@ProvatiBarta