৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:১০:১৬
পরিচয় ফাঁসের ভয়: পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে চাইছেন না সরকারি কর্মকর্তারা
নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকলেও এবার অনেকেই এতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। বরং ভোটের গোপনীয়তা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় তাঁরা আতঙ্কিত। ব্যালট পেপারের সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য যুক্ত থাকায় পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ই এর মূল কারণ।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সংবিধানে গোপন ব্যালটের যে অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, পোস্টাল ব্যালটের বর্তমান পদ্ধতিতে তা পুরোপুরি মানা হচ্ছে না। তাই ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ঝামেলায় পড়ার আশঙ্কায় অনেকেই ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
সরেজমিনে কথা বলে জানা গেছে, পোস্টাল ব্যালট পেপারে একটি নির্দিষ্ট ক্রমিক নম্বর থাকে। আবার ব্যালট জমা দেওয়ার সময় ভোটারকে তাঁর নাম, পদবি ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর লিখতে হয়। কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, এসব তথ্য মিলিয়ে সহজেই বোঝা যেতে পারে—কে কাকে ভোট দিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ভোট দিলে কেউ জানতে পারে না আমি কাকে ভোট দিলাম। কিন্তু পোস্টাল ব্যালটে আমার সব পরিচয় লিখে দিতে হয়। এই তথ্য যে সত্যিই গোপন থাকবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। ভবিষ্যতে সরকার পরিবর্তন হলে আমাকে সহজেই চিহ্নিত করা যেতে পারে।’
এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সরকারি চাকরিজীবীদের বিভিন্ন অনলাইন গ্রুপেও আলোচনা চলছে। অনেকেই বলছেন, এই পদ্ধতিতে ভোট দেওয়া মানে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান লিখিতভাবে জানিয়ে দেওয়া। ভবিষ্যতে ভিন্ন দল ক্ষমতায় এলে বদলি, পদোন্নতি আটকে যাওয়া বা হয়রানির আশঙ্কাও করছেন তাঁরা।
সংবিধান ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য গোপন ব্যালট অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু পোস্টাল ব্যালটে যদি ভোটারের পরিচয় ও ভোটের মধ্যে যোগসূত্র তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকে, তাহলে তা ভোটারের স্বাধীন মত প্রকাশে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
এই অবস্থায় অনেক সরকারি কর্মকর্তা মনে করছেন, ভোট দেওয়ার চেয়ে চাকরি ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষা করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন কমিশন ভোটের গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে না পারায় এই অনাস্থা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে হলে ভোটের ভয় দূর করতে হবে। নইলে ভোটাধিকার থাকবে কাগজে-কলমে, বাস্তবে নয়।

















